assam citizenship

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর (এনআরসি) প্ৰথম খসড়া তালিকায় প্ৰকাশিত ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষই প্ৰকৃত ভারতীয় নাগরিক। তালিকাটি সম্পূৰ্ণ শুদ্ধ ও নিখুঁত বলে এনআরসি সমন্বয়ক প্ৰতীক হাজেলা এবং সৰ্বানন্দ সনোয়াল নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বারবার দাবি করেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময় দাবি করা হল প্ৰথম তালিকায় এক লক্ষ ৩৫ হাজার নাম সন্দেহজনক। তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাথায় হাত অসমের সংখ্যালঘু বাঙালিদের মধ্যে।

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বাঙালিদের পাশে দাঁড়িয়েই এই খসড়া তালিকা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের মাত্ৰ তিনটি জেলা বন্যাপ্লাবিত হওয়ার জন্য এনআরসি তালিকা প্রকাশ করতে দেরি হল কেন? যে তালিকা একবার প্ৰকাশিত হচ্ছে তাকে কেন অশুদ্ধ বলা হচ্ছে?”

tarun gogoi

কোন ভিত্তিতে এক লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়ল সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গগৈ। তিনি বলেন, “শিল্পী, সাহিত্যিক থেকে শুরু করে আপামর মানুষ এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল বিস্ময়কর ভাবে চুপ। তাঁর নিজস্বতা বলে কিছু নেই। কেন্দ্ৰের জনবিরোধী নীতির কাছে আত্মসমৰ্পণ করেছেন সৰ্বানন্দ।”

শুধু গগৈ নন, এই ব্যাপারে সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের আরও এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লকুমার মহন্ত। তিনি বলেন, “জেলা প্ৰশাসন কি ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করছে না? এর ফলে মানবাধিকার লঙিঘত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ২৪ মাৰ্চের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই সরকারকেই নাগরিকত্ব প্ৰদানের ব্যবস্থা করা উচিত। বিনা কারণে কাউকে হেনস্থা করা উচিত নয়।”

নাগরিকপঞ্জীর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস ধরেই সংখ্যালঘুদের ওপরে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠছে অসম সরকারের বিরুদ্ধে। বরাক উপত্যকারই ১০২ বছরের বৃদ্ধ চন্দ্ৰধর দাসকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল। করিমগঞ্জ জেলার রবীন্দ্ৰ নমশূদ্ৰ নামে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধকে এনআরসি সেবাকেন্দ্ৰে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে এনআরবির নতুন খসড়ার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here