মন্দসৌরে গোরক্ষকদের লাথি-ঘুসি খেয়ে পুলিশের হাতে ধৃত দুই মহিলা

0
236

ভোপাল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যতই হুঁশিয়ারি দিন, তাতে পাত্তাই দিচ্ছে না স্বঘোষিত গোরক্ষকরা। তারা তাদের উৎপাত চালিয়ে যাচ্ছে বিনা বাধায়।

গোরক্ষকদের জোরজুলুমের সাম্প্রতিকতম ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশে। গরুর মাংস নিয়ে যাচ্ছেন দুই মুসলিম মহিলা, এই গুজবকে ভিত্তি করে ‘গৌমাতা কি জয়’ ধ্বনি দিয়ে গোরক্ষকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের ওপর। তাদের চড়-ঘুসি মারা হয়, লাথি মারা হয়, আধ ঘণ্টা ধরে নিগ্রহ চলে। নিগ্রহের দৃশ্য দেখতে দেখতে পাশ দিয়ে চলে যান অনেকেই, অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মহিলাদের নিগ্রহ উপভোগ করেন। এক জন আবার সেই ঘটনার ভিডিও করেন, কিন্তু কেউ বাধা দেননি।

এনডিটিভি জানিয়েছে, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর শহরে এই ঘটনা ঘটে ২৭ জুলাই। তার পর জল অনেক দূর গড়িয়েছে। দুই মহিলা গরুর মাংস নিয়ে যাচ্ছিলেন, এই সন্দেহে পুলিশ ওই দুই নিগৃহীতাকেই  গ্রেফতার করেছে। কারণ মধ্যপ্রদেশে গরুর মাংস বহন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু পরে পুলিশ জানিয়েছে, ওঁরা মোষের মাংস নিয়ে যাচ্ছিলেন, যা বহন করা নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু মহিলাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা পারমিট ছাড়াই মাংসের ব্যবসা করছেন। কিন্তু একটা সামান্য গুজবের ভিত্তিতে যারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে মহিলাদের ওপর আক্রমণ চালাল তাদের বিরুদ্ধে বলাই বাহুল্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়াই হয়নি।

১ এপ্রিল গোরক্ষকদের হাতে পেহলু খানের মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে ১১৯ দিন। মন্দসৌরের এই ঘটনা হল গরু সংক্রান্ত ২৬তম হিংসাত্মক ঘটনা। গত চার মাসে গরুকে জড়িয়ে যতগুলো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, গত আট বছরে তা হয়নি। এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে ইন্ডিয়াস্পেন্ড-এর সমীক্ষা থেকে। অথচ গত ২৫ জুলাই লোকসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক বিবৃতি থেকে জানা যায়, গরু সংক্রান্ত হিংসাত্মক ঘটনার কোনো তথ্য তারা সংগ্রহ করে না।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here