‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে বাপ্পাদিত্য সরকারকে থানায় টেনে নিয়ে গেলেন উবের চালক

uber
প্রতীকী ছবি

মুম্বই: কবি এবং মুম্বইয়ের বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য সরকারকে নিজের গন্তব্য না নিয়ে গিয়ে উবের চালক তাঁকে টেনে নিয়ে গেলেন স্থানীয় একটি থানায়। গাড়িতে বসে ফোনে কথা বলছিলেন বাপ্পাদিত্য। ফোনালাপ শুনে চালকের মনে সন্দেহ গাঢ় হয় যে, সওয়ারি একজন দেশদ্রোহী। এর পরই যাত্রীকে নিয়ে থানায় পৌঁছান উবের চালক।

বাপ্পাদিত্য হতবাক হয়ে যান যে, উবের ড্রাইভার তাঁর বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনটি রেকর্ড করে নেয়। তিনি বুধবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১০টা নাগাদ একটি উবের বুক করেন। সে সময় তিনি জুহুর সিলভার বিচ এলাকা থেকে কুরলা ফেরার জন্য ওই গাড়িটি বুক করেন।

গাড়িতে থাকাকালীন তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাঁদের ফোনালাপে উঠে আসে দিল্লির শাহিনবাগ এলাকার অবস্থানের কথাও।

গাড়িতে ওঠার মিনিট ২০ বাদে, উবের ড্রাইভার রোহিত সিং বাপ্পাদিত্যকে বলেন, তিনি এটিএম থেকে টাকা তুলতে যাবেন। কবির অনুমতি পেয়ে রোহিত নেমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’জন পুলিশকর্মীকে নিয়ে তিনি ফিরে আসেন। এর পরই বাপ্পাদিত্য বুঝতে পারেন, তাঁকে সান্তাক্রুজ পশ্চিম থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

থানায় গিয়ে তিনি পুলিশকে রেকর্ডিংগুলি পরীক্ষা করার কথা বলেন। সেখানে “হম দেশ জলা দেঙ্গে” বা “দেশবিরোধী” জাতীয় অন্য কোনো কথা আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে বলেন।

পুলিশ তাঁকে জিঞ্জাসা করে, তিনি সঙ্গে কেন ড্রাম (ডাফলি) রেখেছেন। জিঞ্জাসা করা হয়, তিনি কী ধরনের বই পড়েন, ইত্যাদি। এ ভাবে বাপ্পাদিত্য এবং রোহিতের পৃথক জবানবন্দি নেয় পুলিশ। ছাড়ার সময় পুলিশ বাপ্পাদিত্যকে সতর্ক করে দিয়ে জানায়, বাইরে বেরনোর সময় ড্রাম এবং গলায় লাল ওড়না রাখবেন না।

উবের অবশ্য বাপ্পাদিত্যকে জানিয়েছে, “এটি আমরা জেনেছি। আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এটির মীমাংসা করতে চাই। আমাদের একজন প্রতিনিধি খুব শীঘ্রই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।”

যদিও চালক পুলিশ সামনেই কবিকে হুমকি দিয়ে জানিয়ে দেন, “ভাগ্য ভালো তোমাকে পুলিশের কাছে নিয়ে এসেছি, অন্য কোথাও নিয়ে যাইনি”!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.