বুলেট ট্রেনে ব্রেক দিলেন উদ্ধব

0
uddhav thackeray

মুম্বই: কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথ আরও প্রশস্ত করল নতুন মহারাষ্ট্র। ১.১ লক্ষ কোটি টাকার বুলেট ট্রেন প্রকল্প খতিয়ে দেখবে সেখানকার নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এ কথা ঘোষণা করেছেন। আগের এনডিএ সরকারের আরও একটি প্রকল্প অ্যারে মেট্রো কার শেড প্রকল্প আগেই স্থগিত করে দিয়েছে উদ্ধবের সরকার।  

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে যে সব উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, সে সবই খতিয়ে দেখা হবে। তার মধ্যে মুম্বই-অমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পও রয়েছে।

উদ্ধব অবশ্য পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তাঁর সরকার এই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।  

“এই সরকার সাধারণ মানুষের। আপনারা যেমন জিজ্ঞেস করলেন বুলেট ট্রেন প্রকল্প কী হবে? হ্যাঁ, এই প্রকল্পও খতিয়ে দেখা হবে। তবে অ্যারে মেট্রো কার শেড প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পও কি আমি স্থগিত করে দিয়েছি? না, তা করিনি”, বিধানসভার দু’ দিনব্যাপী বিশেষ অধিবেশনের শেষে রবিবার রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

আরও পড়ুন: তলানিতে জিডিপি বৃদ্ধি, ফের নমনীয় হতে পারে আরবিআই

রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে একটি শ্বেতপত্রও প্রকাশ করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের উপর প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কৃষকদের ঋণ নিঃশর্ত ভাবে মকুব করার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর।

ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোট পরিচালিত মহারাষ্ট্র বিকাশ আঘাডি (এমভিএ) সরকার বিধানসভায় আস্থা ভোট জেতার এক দিন পরে এই সব মন্তব্য করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়ে দেন, অ্যারে কলোনিতে গাছ কাটার প্রতিবাদে আন্দোলন করার জন্য যে সব পরিবেশবাদীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেবে সরকার।

বুলেট ট্রেন প্রকল্প

১.১ লক্ষ কোটি টাকার বুলেট ট্রেন প্রকল্পের ৮১% দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি। এঈ অর্থ ৫০ বছরের মেয়াদে ০.১% সুদে ঋণ হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন গড়া হয়েছে যেখানে মহারাষ্ট্র ও গুজরাত সরকার ৫০০০ কোটি টাকা ইকুয়িটি হিসাবে দেবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভাগ হল ১০ কোটি টাকা।

যাঁদের জমি অধিগ্রহণ করে বুলেট ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেই আদিবাসী ও কৃষকদের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছে এই প্রকল্প। মুম্বইয়ের উত্তরে পালঘরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে এই প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য জমি দরকার ১৩৮০ হেক্টর, অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৫৪৮ হেক্টর। ২০২৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্প চালু হয়ে যাওয়ার কথা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.