নয়াদিল্লি :  একটা নতুন পরিসংখ্যান বলছে দেশের নামকরা বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মীরা সংস্থার সাধারণ কর্মীদের থেকে ১২০০ গুণ বেশি বেতন পান।

দেশের ব্লু চিপ ফার্মগুলো তার উচ্চপদস্থ কর্মীদের বেতনের একটা তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকা থেকেই এই তথ্য সামনে এসেছে। তালিকায় দেখানো হয়েছে উচ্চপদস্থদের বেতন বাকিদের থেকে কত বেশি এবং ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে আরও কতটা বেড়েছে — যাবতীয় সব কিছুই। এই তালিকা তারা তৈরি করেছে মূলধনী বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির নির্দেশ অনুযায়ী।

উলটো দিকে গত অর্থ বর্ষে ওই সব সংস্থার সাধারণ কর্মীদের বেতন কোথাও কমেছে, কোথাও একই থেকে গেছে। অথচ একই সংস্থার উচ্চপদস্থদের বেতন আকাশছোঁয়া এবং বেশির ভাগেরই বেতন আরও বাড়েছে।

তবে সরকারি সংস্থায় বেতন পার্থক্য এতটা নয়। সাধারণত উচ্চপদস্থদ কর্মীরা সাধারণ কর্মীদের চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি বেতন পান। অথচ এ ক্ষেত্রে কার বেতন কত হতে পারে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই।

লগ্নিকারীরা যে কোম্পানিতে লগ্নি করতে চান সেখানকার বেতন কাঠামো তাঁরা যাতে জানতে পারেন তার জন্য সেবির নিয়ম অনুসারে তালিকাবদ্ধ কোম্পানিগুলিকে বিভিন্ন স্তরে বেতনহার প্রকাশ করতে হয়। তবে তারা সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ একজিকিউটিভদের কত বেতন দেবে তার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা নেই ওই নিয়ম অনুসারে। বেসরকারি সংস্থগুলোর শীর্ষকর্তাদের বেতন ঠিক করার ক্ষেত্রে সংস্থার পরিচালন বোর্ড, বিভিন্ন কমিটি, শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। তবে যে সব কোম্পানির মুনাফা যথেষ্ট নয়, তারা যদি তাদের শীর্ষ কর্তাদের মাত্রাতিরিক্ত বেতন দিতে চায়, সে ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নিতে হয়।

নিয়ম অনুযায়ী সংস্থায় যদি এক জন ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা পূর্ণ সময়ের জন্য এক জন ম্যানেজার বা ডিরেক্টর থাকেন তবে তাঁর বেতন সংস্থার নিট মুনাফার ৫%-এর বেশি হতে পারবে না। আর এই জাতীয় উচ্চপদস্থ কর্মীর সংখ্যা একাধিক হলে তাঁদের সকলের মোট বেতনের পরিমাণ সংস্থার মোট মুনাফার ১০%-এর বেশি হতে পারবে না।

৩০টা সেনসেক্সভুক্ত কোম্পানির মধ্যে অন্তত ১৫টা কোম্পানি ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে মাঝারি পদের কর্মীদের বেতনের তুলনায় শীর্ষ কর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার কতটা তা স্পষ্ট করে জানিয়েছে। ৯টি সংস্থা এখনও পর্যন্ত এই তালিকা প্রকাশ করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ৯টির তালিকা প্রকাশ হলে এই ১২০০ গুণের অনুপাতটা হয়ত আরও বাড়বে। ৩০টার মধ্যে ৬টা সংস্থায় এই বেতন বৃদ্ধির হার কমেছে।

তালিকা অনুযায়ী যে সব সংস্থায় এই বেতন বৃদ্ধির হার কমেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে — উইপ্রো (২৬০ থেকে কমে ২৫৯ গুণ), ইনফোসিস (২৮৩ গুণ ), ডাঃ রেড্ডিস ল্যাব (৩১২ থেকে কমে ২৩৩ গুণ), হিরো মোটো কর্প (৭৭৫ থেকে কমে ৭৩১ গুণ)। তবে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। যদিও সংস্থার প্রধান মুকেশ অম্বানির বেতন গত কয়েক বছর ধরে ১৫ কোটিতেই আটকে আছে। ২০১৪-১৫ সালের হিসেব অনুযায়ী তা ছিল সাধারণ কর্মীদের বেতনের থেকে ২০৫ গুণ বেশি।

অপর দিকে টিসিএস-এ এই বৃদ্ধির হার গত অর্থবর্ষে ছিল ৪৮০ গুণ বেশি। চলতি বর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১৫ গুণ। সেই জায়গায় লুপিনের চেয়ারম্যানের বেতন ১২৬৩ গুণ বেশি। অবশ্য গত অর্থবর্ষে তা ছিল ১৩১৭ গুণ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here