কাশ্মীরবাসীদের মন জয়ের চেষ্টায় নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে মূল মন্ত্র হল একতা আর ভালোবাসা।   

নিজের রেডিও ভাষণ ‘মন কী বাত’-এর ২৩তম সংস্করণে রবিবার প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরের মানুষের কাছে শান্তি ফিরিয়ে আনার বার্তা দিলেন। মোদীর কথায়, “সাধারণ যুবক হোক বা সেনা জওয়ান, একটি মৃত্যু মানে আমাদের ক্ষতি, আমাদের দেশের ক্ষতি। কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যা করণীয় আমাদের তা করা উচিত। এতগুলো মৃত্যু দেখা খুব দুঃখজনক”। তিনি আরও বলেন, “আমার সাথে কাশ্মীরের সমস্ত রাজনৈতিক দলের কথা হয়েছে। ওই আলোচনা থেকে আমাদের মনে হয়েছে উপত্যকার সমস্যা সমাধানে মূল মন্ত্র হচ্ছে একতা আর মমতা”।

মোদীর কথায়, “আমাদের দেশ ১২৫ কোটি জনসংখ্যার বিশাল দেশ। এত বড়ো দেশ হওয়ায় আমাদের মধ্যে বৈচিত্র্যও রয়েছে বিস্তর। আমাদের সকলের উচিত এই বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা স্থাপন করা, আর সেটা হলেই দেশ হিসেবে আমরা আরও অনেক এগিয়ে যাব”।

এর পরেই অশান্তি সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজ যারা কিশোর-যুবকদের অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য প্ররোচিত করছে, এক দিন তাদের এই কিশোর-যুবকদের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে”।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সমাধান সুত্র খোঁজার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রয়োজনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথেও কথাবার্তা চালানোর পরোক্ষ ভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। শনিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি জানান, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন আছে। তাঁর ক্ষমতায় থাকাকালীন যদি কাশ্মীরে পরিস্থিতি না পাল্টায়, তা হলে আর কখনও পালটাবে না”।

এ দিকে কাশ্মীরে অশান্তি ৫০ দিনে পেরিয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৭০ ছাড়িয়েছে।

রবিবার অবশ্য কাশ্মীর নিয়ে বার্তা দেওয়ার ছাড়াও রিও অলিম্পিক নিয়েও বলেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষী মালিক, পিভি সিন্ধু, দীপা কর্মকার আর পুল্লেলা গোপীচাঁদের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর রেডিও বার্তায় উঠে আসে পরিবেশ সচেতনতার প্রসঙ্গও। গণেশ পুজো আর দুর্গাপুজোকে পরিবেশবান্ধব করে তোলার কথা বলেন তিনি।    

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here