নিজস্ব সংবাদদাতা, গুযাহাটি: আশঙ্কা ছিলই। চলছিল জঙ্গি হানা ঠেকাতে সেনাবাহিনীর অভিযানও। কিন্তু তার মধ্যেই পশ্চিম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যৌথ জাতীয় মুক্তি  মোর্চার জঙ্গিরা অরুণাচলের টিরাপে ফের নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে আক্রমণ চালাল। মারা গেলেন আসাম রাইফেলসের এক জুনিয়র কমিশনড অফিসার ও এক জওয়ান। জখম হয়েছেন অন্তত আট জন।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ১৬ নম্বর আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা টিরাপ জেলার থিনসা এলাকায় মায়ানমার সীমান্তে টহলে বের হন। শনিবার তাঁরা ফিরছিলেন। বেলা ২টো নাগাদ, ওয়াক্কা এলাকার এনগিনু গ্রামের কাছে খাপলাং-আলফা বাহিনীর জঙ্গিরা আরপিজি ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জওয়ানদের উপরে আক্রমণ চালায়। তাদের দুটি গাড়ি লক্ষ করে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। গুলিতে লুটিয়ে পড়েন ১০ জন জওয়ান। আসাম রাইফেলস পরে জানায়, এক জুনিয়র কমিশন্‌ড অফিসার ও এক জওয়ান ঘটনাস্থলেই মারা যান। জখম আটজনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জঙ্গিরা জওয়ানদের অস্ত্রও লুঠ করে।

টিরাপ ও চাংলাং জেলা বরাবরই নাগা জঙ্গিদের ঘাঁটি। তাই সেখানে আফস্পাও জারি রয়েছে। আলফা-খাপলাং-এনডিএফবি-কেএলও ও মেঘালয়-মণিপুরের জঙ্গিদের নিয়ে তৈরি যৌথ মোর্চা ইউএনএলএফডব্লু ফের আক্রমণ চালাতে পারে বলে খবর ছিল। অসম পুলিশের বিশেষ শাখার এডিজি পল্লব ভট্টাচার্য এ দিন সকালেই জানিয়েছিলেন সুযোগ পেলেই আক্রমণ চালাবে যৌথ মোর্চা। তারপরেই এই ঘটনা। অসম রাইফেলস জানায়, ওই এলাকায় খাপলাং কম্যান্ডার পিয়ংয়ের নেতৃত্বে খাপলাংদের ঘাঁটি রয়েছে। তারা তোলাবাজিও চালাচ্ছে। আজকের ঘটনায় পিয়ং বাহিনীর হাত ছিল।

ছোট হামলা বাদ দিয়ে, গত এক বছরে সেনা ও আধা সেনার উপরে আজকের ঘটনা নিয়ে সাতটি বড় জঙ্গি হানার ঘটনা ঘটল। চলতি বছর ২২ মে, মণিপুরের চান্ডেলে ছ’জন আসাম রাইফেলসের জওয়ানকে হত্যা করে যৌথ মোর্চা। ৩ সেপ্টেম্বর নাগাল্যান্ডের জুনহেবটোয় আসাম রাইফেলসের কনভয়ে জঙ্গি হামলায় চার জওয়ান জখম হন। এর পর ১৯ নভেম্বর অসমের তিনসুকিয়া জেলার পেঙেরিতে সেনা কনভয়ে জঙ্গি হানায় তিন জওয়ান মারা যান। তারপর ২৬ নভেম্বর মণিপুরের চান্ডেলে জঙ্গি হানায় জখম হন পাঁচ জওয়ান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here