unnao rape victim shifted

ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের শামসাবাদের ধর্ষিতার মতোই একই পরিণতি হল উন্নাওয়ের ধর্ষিতারও। ধর্ষণে অভিযুক্তদের লাগানো আগুনে শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিতে হল তাঁকে। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছিল তাঁর। কিন্তু শুক্রবার রাত ১১.৪০ মিনিটে সব লড়াই শেষ হয়ে গেল। সংবাদসংস্থা এএনআই এই খবর দিয়েছে।

সাংঘাতিক ভাবে পুড়ে যাওয়া ওই তরুণীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লির হাসপাতালের ডাক্তাররা শুক্রবার সকালে জানান, রোগিণীর অবস্থা খুবই সংকটজনক, তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার সকালে ওই তরুণী যখন তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে রায়বরেলির আদালতে যাচ্ছিলেন তখন পাঁচ ব্যক্তি তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে ধর্ষণে দুই মূল অভিযুক্তও ছিল।

প্রথমে ওই তরুণীকে ভরতি করা হয় লখনউয়ের এক সরকারী হাসপাতালে। ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে হইচই শুরু হতে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার নড়েচড়ে বসে। দিল্লির হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়।

আরও পড়ুন: হায়দরাবাদ এনকাউন্টারের পর চাঞ্চল্যকর দাবি তেলঙ্গানা পুলিশের

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে লখনউয়ের হাসপাতাল থেকে আমাউসি বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয় এবং দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফের গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা করে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মহিলার সঙ্গে এক দল ডাক্তারও লখনউ থেকে দিল্লি যান।

ওই মহিলার জন্য হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির বিভাগীয় প্রধান ড. শলব কুমারের অধীনে একটি বিশেষ আইসিইউ-এর ব্যবস্থা করা হয়।

লখনউ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, ওই তরুণীর দেহের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা তাঁর পক্ষে খুবই সংকটপূর্ণ সময়।

দুই মূল অভিজুক্ত-সহ পাঁচ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে।

কী ঘটেছিল

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর এক টুইটের জবাবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ টুইট করে জানায়, ওই তরুণী গত মার্চে এফআইআর দায়ের করে জানান, তার আগের বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে ১২ ডিসেম্বর থেকে এক যুবক বিয়ে করার নাম করে বার বার ধর্ষণ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালের ঘটনা সম্পর্কে ওই তরুণী এক বিবৃতিতে মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট দয়াশংকর পাঠককে বলা গিয়েছেন, তিনি যখন তাঁর বাড়ির কাছে গৌরা বাঁকে পৌঁছোন তখন তাঁকে আক্রমণ করা হয়। তিনি জানান, হরিশংকর ত্রিবেদী, রাম কিশোর ত্রিবেদী, উমেশ বাজপাই, শিবম ত্রিবেদী এবং শুভম ত্রিবেদী তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ওই তরুণী তাঁর বিবৃতিতে আরও জানিয়ে গিয়েছেন, গায়ে আগুন লাগা অবস্থায় তাঁকে ছোটাছুটি করতে দেখে কয়েক জন পুলিশকে খবর দেয়। তাঁকে কাছাকাছি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে এবং তার পরে লখনউয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ জানায়।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন