উত্তরপ্রদেশের উনাও ধর্ষণ-কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি নেতা কুলদীপ সিং সেঙ্গারের শাস্তি স্থগিত করে দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন নির্যাতিতা। তাঁর অভিযোগ, এই রায় তাঁর পরিবারের জন্য ‘মৃত্যুঘণ্টা’র সমান, এবং সন্তান না থাকলে তিনি বিচারকক্ষেই আত্মহত্যা করতেন। বুধবার তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
নির্যাতিতা পিটিআই–কে বলেন, “বিচারক ভুক্তভোগীকে দেখলেন না, শুধু রায় দিলেন। আমার বাচ্চা না থাকলে আমি আজ আর বেঁচে থাকতাম না।”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, “এ রকম ঘটনায় যদি অভিযুক্ত জামিন পায়, তবে দেশের মেয়েরা নিরাপদ থাকবে কীভাবে?”
সেঙ্গার এখনই মুক্ত নন
যদিও ধর্ষণ মামলায় শাস্তি স্থগিত হয়েছে, সেঙ্গার আপাতত কারাগারেই থাকছেন, কারণ নির্যাতিতার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন তিনি। সেই মামলার শুনানি ১৬ জানুয়ারি।
ইন্ডিয়া গেট থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো নির্যাতিতাকে
মঙ্গলবার রাতে ইন্ডিয়া গেটে বসে প্রতিবাদে যোগ দেন নির্যাতিতা, তাঁর মা এবং নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী যোগিতা ভায়না। পরে পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ নির্যাতিতা ও তাঁর মাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের দাবি, ৮.৪৫ মিনিটে শান্তিপূর্ণ ভাবে সরানো হয়, কোনও অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রাহুল গান্ধীর সহানুভূতি, কড়া সমালোচনা
বুধবার ১০ জনপথে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, “দেশ শুধু মৃত অর্থনীতি নয়, মৃত সমাজেও পরিণত হচ্ছে। ধর্ষক জামিন পাচ্ছেন, আর নির্যাতিতা অপরাধীর মতো আচরণ পাচ্ছেন—এ কেমন বিচার?”
এক্স–এ রাহুল প্রশ্ন তোলেন, “বিরোধের আওয়াজ তোলা অপরাধ নয়, বরং তা দমন করাই অপরাধ।”
নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবি
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সাড়া মেলেনি। এরপরই রাহুল–সোনিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা জানান, পরিবার নিরাপত্তার স্বার্থে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে স্থানান্তর, শীর্ষ আইনজীবী এবং জীবিকার সহায়তা চেয়েছে।
নিরাপত্তা সত্ত্বেও আশঙ্কা
এ মুহূর্তে নির্যাতিতা সিআরপিএফের নিরাপত্তায় থাকলেও তাঁর অভিযোগ—পথে বেরোতেই বাধা, এমনকি ধস্তাধস্তিতে তিনি আহতও হয়েছেন বলে দাবি।


