নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: ‘গ্রেটার নাগালিম’কে কেন্দ্র করে এক নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অসমে। এ নিয়ে নাগাল্যান্ড লাগোয়া অসমের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুরু হয়েছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। গোলাঘাট, খুমটাই, গেলেকি, মরিয়নি, তেজপুর-সহ বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের কুশপুতুল পুড়িয়ে প্রতিবাদ করা হচ্ছে। ‘রক্ত দেব, অসমের এক দানা মাটিও কাউকে দেব না’, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুর্দাবাদ’-সহ কেন্দ্র-বিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য শনিবার বলেছেন, ‘বৃহত্তর নাগাল্যান্ড’ তৈরি করতে গিয়ে কোনো ভাবেই তাঁর রাজ্যের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করা হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারও এক বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো চুক্তি হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। 

‘নাগালিম ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’-এর বিরুদ্ধে উজান অসমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এ মুহূর্তে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আটসা, আসু, জাতীয়তাবাদী যুব-ছাত্র পরিষদ-সহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নাগরিকরা প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। তেজপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয় প্রাঙ্গণেও প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার-বিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

গ্রেটার নাগালিমে (বৃহত্তর নাগাল্যান্ড) অসম, মণিপুর ও অরুণাচলের নাগা অধ্যুষিত এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক জনসভায় দাবি করেন নাগাল্যান্ডের উগ্রপন্থী সংগঠন এনএসসিএন (ইশাক-মুইভা)-এর সাধারণ সম্পাদক থুইঙ্গালেং মুইভা। সে দিন তিনি বলেন, গত ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট কেন্দ্রের সঙ্গে ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড (ইশাক-মুইভা)-র মধ্যে যে ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে দু’পক্ষের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। ডিমাপুরের হেব্রনে এনএসসিএন (আইএম)-এর সদর দফতরে সংগঠনের ৩৮তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে সে দিন ভাষণ দিচ্ছিলেন মুইভা।

মুইভার সে দিনের ভাষণ যদি সত্যি হয় অর্থাৎ এনএসসিএন (আইএম)-এর বৃহত্তর নাগালিমের দাবিতে যদি কেন্দ্র সম্মতি দিয়ে থাকে তা হলে নাগাল্যান্ডের সীমানাবর্তী অসমের শিবসাগর, কারবি আংলং, গোলাঘাট এবং ডিমা হাসাও জেলার নাগা অধ্যুষিত এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশ এবং মণিপুরেরও বহু এলাকা এনএসসিএন (আইএম)-এর শাসনাধীন অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত হবে। 

বৃহস্পতিবার নাগা উগ্রপন্থী নেতা মুইভার ভাষণের পর শুক্রবার বেলা দশটা নাগাদ নাগাল্যান্ড থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতী দিসৈ উপত্যকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল নজুলিতে এসে গ্রামের বাসিন্দাদের খেতের ফসল ইত্যাদি কেটে নিয়ে অবাধে চলে গিয়েছে। তা ছাড়া উজান অসমের মরিয়নির পাঞ্চোয়াল গ্রামেও বিঘার পর বিঘা জমিতে সশস্ত্র নাগারা ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বলে খবর।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন