up farmer

লখনউ: নাম ঈশ্বর দয়াল। নিবাস ভরতনা, এটাওয়া, উত্তরপ্রদেশ। পেশায় প্রান্তিক চাষি। তাঁর কৃষিঋণ মকুব হয়েছে। সেই মর্মে সার্টিফিকেটও পেয়েছেন জেলা আধিকারিকদের কাছ থেকে। তবে ঋণ মকুবের পরিমাণ শুনে চমকে উঠবেন না – ১৯ পয়সা।

হাতে সার্টিফিকেট পেয়ে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেননি ঈশ্বর – ১৯ পয়সা ঋণ মকুব! এ-ও হয়?

কিন্তু ঈশ্বর একা নন। জেলাসদর এটাওয়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষিঋণ মকুবের সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়েছে। এবং সার্টিফিকেট পেয়ে ঈশ্বরের মতো অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। রামানন্দের নাকি ব্যাঙ্কের কাছে ১.৭৯ টাকা ধার ছিল। সেটা মকুব করে দেওয়া হয়েছে। মুন্নিলাল ভোলির ধার ছিল দু’ টাকা। সেটাও মকুব হয়ে যাওয়ার সার্টিফিকেট পেয়েছেন তিনি।

এগুলো তো হাতে গোনা কয়েকটি ঘটনা। আদতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যে ভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন তাতে বহু চাষিই হতভম্ব। আদিত্যনাথের প্রতিশ্রুতি ছিল এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মকুব করে দেবেন তিনি।

শুধু আদিত্যনাথ কেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তো ফেব্রুয়ারিতে কনৌজে নির্বাচনী জনসভায় একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, কৃষিঋণ মকুব করলে রাজ্যের ৮৬ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবেন।

সেই ঋণ মকুবের অনুষ্ঠান চলছে জেলাসদরগুলিতে। চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শংসাপত্র। এই ঋণ মকুবে বহু চাষি উপকৃত হচ্ছেন বটে, কিন্তু অনেক চাষিই আবার ঋণ মকুবের পরিমাণ দেখে হতভম্ব হয়ে যাচ্ছেন।

গত রবিবার হামিরপুরে এমনই এক অনুষ্ঠানে ‘উপকৃত’ কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঋণ মকুবের সার্টিফিকেট। তাতে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েক জন চাষির ঋণ মকুব হয়েছে ১০ টাকা থেকে ২১৫ টাকা পর্যন্ত।

সোমবার এটাওয়ার অনুষ্ঠানে হাজার সাতেক কৃষকের হাতে ঋণ মকুবের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, এঁদের মধ্যে ৫০ জনের প্রত্যেকের ঋণ মকুবের পরিমাণ ১০০ টাকারও কম। আর শ’ দুয়েক কৃষকের ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা করে ঋণ মকুব হয়েছে।

“হামিরপুরে সার্টিফিকেট পেলাম। দেখলাম আমার ঋণ মকুব হয়েছে ১০.৩৭ টাকা। আমি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষির তালিকায়। কিসান ক্রেডিট কার্ডে আমার ঋণের পরিমাণ ১.৫৫ লক্ষ টাকা। আশা ছিল সরকার এক লক্ষ টাকা মকুব করে দেবেন” – বললেন মৌদহের মুন্নি লাল।

কৃষিঋণ মকুব নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। জলায়ুঁ, কনৌজ, মহোবা ও ফারুকাবাদ জেলা থেকে কৃষিঋণ মকুবের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষের খবর আসছে। এই সুযোগে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের মতে, ঢাকঢোল পিটিয়ে এই যে কৃষিঋণ মকুব করা হচ্ছে, এ সবই লোকদেখানো। সমাজবাদী পার্টির জুহি সিংহ বলেছেন, ‘হাস্যকর ব্যাপার’।

তবে এত কম টাকা কৃষিঋণ হিসাবে মকুবের ব্যাপারে মন্ত্রী বা আমলা কেউই আশ্চর্য হননি। সরকার যে তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে এতে যারপরনাই আহ্লাদিত কৃষিমন্ত্রী সূর্য প্রতাপ শাহি। বলেন, “ব্যাঙ্কের কাছে কৃষকের যদি খুব কম টাকা ধার থাকে তা হলে সেটাই সরকার মকুব করেছে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে? আমরা তো কৃষকের ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারি না।”

কৃষির অতিরিক্ত ডিরেক্টর রাজেশ গুপ্তা বলেন, “বহু কৃষক ২০১৬-১৭ সালে ব্যাঙ্কে তাঁদের ঋণ মিটিয়েছেন। দেখা গিয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুব কম টাকা ধার পড়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিমাণটা এক টাকারও কম। নানা কারণে এটা হয়েছে। হয় তো সুদের হিসাব করতে ভুল হয়েছে। হিসাবে যা আছে আমরা সেইটুকু পরিমাণই মকুব করে সার্টিফিকেট দিয়েছি।”

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here