uttar pradesh

ওয়েবডেস্ক: গীতায় নিজেই কথা দিয়েছিলেন তিনি, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্য বার বার অবতীর্ণ হবেন ধরাধামে। তা বলে এ বার শ্রীকৃষ্ণ ভর করবেন পুলিশের কাঁধে?

খবর তো সে রকমই বলছে! জানা গিয়েছে, পুলিশকে আরও বেশি করে পর্যটন-বান্ধব করে তুলতে মথুরায় বদলে দেওয়া হচ্ছে চিরাচরিত ইউনিফর্ম। এ বার মথুরায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাঁধে বসবে শ্রীকৃষ্ণের ছবি দেওয়া বিশেষ ব্যাজ। যা এক দিকে যেমন ভরসা দেবে সাধারণ তীর্থযাত্রীকে, তেমনই সামাজিক অপরাধ দমনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ফতেপুর সিক্রিতে সুইস দম্পতির হেনস্তার পর বিশেষ করে এই ভোলবদলে মন দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

মানে, ওই শ্রীকৃষ্ণের ছবি দেখেই উত্তরপ্রদেশের সব সামাজিক সমস্যা গুটিগুটি উধাও হয়ে যাবে?

“মথুরা শ্রীকৃষ্ণের আপন ভূমি। ভগবানের টানে এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন। অনেকেই নানা অসুবিধায়ও পড়েন। কিন্তু সব সময়ে তাঁরা পুলিশের কাছে যেতে ভরসা পান না। সেই জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ তীর্থযাত্রীরা পুলিশকেও তাঁদের মতো কৃষ্ণঅন্তপ্রাণ দেখে সমস্যার প্রতিকারে তাঁদের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবতে পারবেন”, জানিয়েছেন মথুরার সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট স্বপ্নিল মাঙ্গাইন।

এ যেন ঠিক দুষ্টু মানুষদের অপকর্ম ঠেকানোর জন্য বাড়ির দেওয়ালে ঠাকুর-দেবতার ছবি দেওয়া টাইল বসানো! কিন্তু শুধু এটুকুতেই থেমে নেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের পরিকল্পনা। বৃন্দাবনকে এর আগেই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রর মর্যাদা দিয়েছে তারা। আর এ বার পুলিশের কাঁধে শ্রীকৃষ্ণকে ঠাঁই দেওয়ার পাশাপাশি মথুরার সব বাড়ি-ঘর গেরুয়া রঙে রাঙানোর পরিকল্পনাও চলছে। যা স্বাভাবিক ভাবেই দেশে জন্ম দিয়েছে প্রবল সমালোচনার। এ হেন গৈরিকীকরণের প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন অনেক রাজনৈতিক দলের সদস্যরাই!

“পুলিশের ইউনিফর্মে এমন কোনো লোগো বসানো উচিত নয় যা তার ধর্মনিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে”, বলছেন মথুরার প্রাক্তন ডিজিপি ব্রিজ লাল। অন্তত ভারতীয় সংবিধান সে রকম অনুমতি দেয় না। দেশ যেমন ধর্মনিরপেক্ষ, তেমনই হওয়া উচিত প্রশাসনিক ক্ষেত্রও। অথচ, সংবিধান অমান্য করেই দিব্যি চলছে মথুরার পুলিশকে কৃষ্ণভক্তে পরিণত করার পরিকল্পনা!

আর ঠিক এই মর্মেই সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করছেন কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র বিকাশ বনসল। “ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সরকারের তাই এ রকম ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে তোল্লাই দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। শুধু হিন্দুরাই নয়, ওই শহরে অনেক মুসলিমও নিত্য যাতায়াত করেন। এ বার যদি পুলিশের কাঁধে হিন্দু তকমা বসে, তা হলে তাঁরা কোথায় যাবেন?” পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবাদের এক সুর ধরা দিয়েছে কংগ্রেসের আগ্রার সভাপতি হাজি জামিলুদ্দিন কুরেশির বক্তব্যেও। “পুলিশকে এটা মানায় না। এ রকম হলে মুসলমানরা পুলিশের উপর আস্থা হারাবেন”, বলছেন কুরেশি। যদিও ভারতীয় জনতা পার্টি পরিকল্পনায় ভুল কিছু দেখছে না। বিতর্ক এড়াতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বর্ষীয়ান নেতা সওয়াল করেছেন- “সবাই জানেন মথুরা আর বৃন্দাবন কৃষ্ণলীলার সঙ্গে জড়িত। তা-ই যখন মেনে নিচ্ছি, তখন সেখানকার পুলিশের কাঁধে শ্রীকৃষ্ণের ছবি বসলে দোষ কী?”

ভারতীয় জনতা পার্টির ওই নেতাকে সমর্থন করছে মথুরার সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট স্বপ্নিল মাঙ্গাইনের দাবিও- “আগ্রা যেমন তাজ মহলের জন্য বিখ্যাত, তেমনই মথুরা বাঁকেবিহারী মন্দিরের জন্য। সেই জন্যই আমার ধারণা, শ্রীকৃষ্ণের ছবি দেওয়া এই বিশেষ ব্যাজ পুলিশকে এক আলাদা অভিজ্ঞান দেবে!”

এর পরে আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে?

জয় শ্রীকৃষ্ণ!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here