BJP-MLA
মহিলা বিধায়ক মন্দিরে প্রবেশের পর গঙ্গা জল দিয়ে ধোয়া হয়।

ওয়েবডেস্ক: একে দলিত তায় মহিলা। হোক না তিনি জনপ্রতিনিধি, বিজেপি বিধায়ক। উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় একটি মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন বলে মন্দির শুদ্ধ করা হল গঙ্গাজলে। দেবতার মূর্তিদেরও পাঠানো হল প্রয়াগে শুদ্ধিকরণের জন্য।

১২ জুলাই রথের বিজেপি বিধায়ক মনীষা অনুরাগী তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মুসকুরা খুর্দ গ্রামে গিয়েছিলেন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য।  পরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সেখানকার বিখ্যাত ধ্রুম ঋষি মন্দিরে গিয়েছিলেন পুজো দেবার জন্য। তিনি জানতেন না যে ওই মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস ওই মন্দিরটি মহাভারতের সময়কার। কয়েক শতক ধরে মন্দিরটিতে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। স্থানীয়দের বিশ্বাস মন্দিরটির দেওয়ালেও যদি কোনো মহিলা হাত দেয় তবে ভয়ঙ্কর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসবে।

মন্দির দর্শনের সময় দলিত মহিলা বিজেপি বিধায়ক শুধু পুজোই দেন নি, ঋষি ধ্রুম যে বেদীতে বসে ধ্যান করতেন তাতে চড়েন তিনি। এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ওই বেদীতে চড়ার সাহস কেউ দেখায় না।

ডিএনএ জানিয়েছে, মন্দিরের পুরোহিত স্বামী দয়ানন্দ মোহন্ত, বিজেপি কর্মীদের চাপে পড়ে বিধায়ককে মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেননি বলে জানিয়েছেন। পরে তিনি চলে গেলে দরজা বন্ধ করে দেন শুদ্ধিকরণের জন্য।  একে মহিলা তায় আবার দলিত, গোট বিষয়টিতেই বেশ ক্ষুদ্ধ পুরোহিত।

অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে পুরোহিত জানিয়েছেন, বিজেপি বিধায়ক যখন মন্দিরে প্রবেশ করেন, সেই সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। থাকলে তিনি ঢুকতে দিতেন না।

প্রয়াগে সঙ্গমের জলে শুদ্ধি করিয়ে এনে ফের দেবতাদের মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হবে। তারপর একটি ‘ভান্ডারা’র অনুষ্ঠানে মন্দির ফের খুলে দেওয়ার ঘোষণা করা হবে।

বিজেপি বিধায়ক মনীষা অনুরাগী অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি জানতেনই না যে ওই মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নেই। জানলে তিনি সেখানে প্রবেশ করতেন না।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন, ‘‘যদি এই ঘটনা ঘটে থাকে তবে তা মহিলাদের কাছে অপমানকর। এটা একেবারেই বোকা বোকা কাজ।

কিছু আগেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সাবারিমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা ‘অসংবিধানিক’। বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, প্রার্থণা করার অধিকার মহিলা-পুরুষ উভয়েরই আছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here