varavara rao
গ্রেফতারির পরে ভরভরা রাও

ওয়েবডেস্ক: ভিমা কোরেগাঁও হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকর্মী তথা মাওবাদী তাত্বিক নেতা ভরভরা রাও-সহ একাধিক সমাজকর্মীকে আটক করেছে পুনে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভারতের আটটা শহরে একযোগে হানা দেয় পুনে পুলিশের বিশেষ দল। হায়দরাবাদে ভরভরা রাও ছাড়াও গ্রেফতার করা হয় স্থানীয় সাংবাদিক ক্রান্তি টেকুলাকে। দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে গৌতম নবলখাকে। মুম্বই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভার্নন গঞ্জালভেস এবং অরুণ পেরেরাকে, ফরিদাবাদ থেকে সুধা ভরদ্বাজকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গত বছর ৩১ ডিসেম্বরে পুনের কাছে ভিমা কোরেগাঁওয়ে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। এই হিংসায় মাওবাদীদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ ছিল পুলিশের। সেই মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্দেহেই মঙ্গলবার সকাল থেকে একযোগে এই তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।

আরও পড়ুন দলের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ভাই, দাদা বললেন ‘ফল ভুগতে হবে’

আটক ব্যক্তিদের বাড়ি ছাড়াও এ দিন তল্লাশি চালানো হয় রাঁচিতে স্টান স্বামী নামক এক সমাজকর্মী তথা যাজকের বাড়ি, ভরভরা রাও-এর মেয়েদের বাড়ি এবং গোয়া দলিত নেতা আনন্দ তেলতুম্বদের বাড়ি। অভিযোগ, তেলতুম্বদের অনুপস্থিতিতেই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীর থেকে বাড়ির চাবি নিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ছ’টা থেকে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সারা দিনই তল্লাশি চলতে থাকে বলে খবর। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “তল্লশি চালিয়ে কিছু তথ্য, ল্যাপটপ এবং আরও কিছু জিনিস পেয়েছি। সব কিছু খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে।”

সূত্রের খবর, এই হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে যে পাঁচজনকে গত জুন মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের জেরা করেই এই নামগুলি বেরিয়ে আসে। তার পরেই তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন ফের রাজনৈতিক খুন! অশান্তির কালো ছায়া ঝাড়গ্রামে, আটক সিপিএম সমর্থক

উল্লেখ্য, ১৮১৮ সালে মারাঠা পেশোয়াদের বিরুদ্ধে ইংরেজরা যুদ্ধে নামে। সেই যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল ভিমা কোরেগাঁও-এর দলিত সম্প্রদায়। সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল মারাঠা পেশোয়ারা। সেই থেকে ওই জয়কে নিজেদের শৌর্য, গৌরব ও সাফল্যের দিন হিসাবে উদযাপন করেন দলিতরা। ২০১৮ সালে সেই জয়ের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ভিমা কোরেগাঁও এলাকায় সমবেত হয়েছিলেন অসংখ্য দলিত। কিন্তু, বেশ কয়েকটি ‘দক্ষিণপন্থী সংগঠন’ এই উদযাপনের বিরোধিতা করে। তাদের দাবি, এই জয় আসলে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শক্তির জয় এবং এর উপযাপনের কোনো কারণ নেই। এর পরই সমবেত দলিতদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েক জন আহত হন। এর জেরে বিক্ষোভকারীরা পথ অবরোধ শুরু করেন।

তবে এ দিনের এই গ্রেফতারির পরে দেশের বর্তমান শাসকের ‘রাজনৈতিক অভিসন্ধির’ অভিযোগ তুলেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন