রায়পুর: নকশাল দমনের নামে আদিবাসীদের ওপর কী ভাবে অত্যাচার করা হয়, নিজের ফেসবুকে সেই ব্যাপারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই বর্ষা ডোঙ্গরেকে ‘বিশৃঙ্খলা’র অভিযোগে সাসপেন্ড করল ছত্তীসগঢ় সরকার।

জেলের মধ্যে আদিবাসী মহিলাদের বিবস্ত্র করে কী ভাবে অত্যাচার করা হয় সেই ব্যাপারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট বর্ষাদেবী। সুকমায় সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর মাওবাদী হামলার সময়েই করা এই পোস্টটির ফলে রাজ্য এবং কেন্দ্রে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। নিজেদের আত্মসমীক্ষা করার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে মাওবাদী তথা নকশালবাদ দমনের নামে রাজ্য সরকার কী ভাবে আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিচ্ছে সে ব্যাপারেও সোচ্চার হয়েছিলেন বর্ষাদেবী।

ছত্তীসগঢ়ের পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে করা এই অভিযোগ তারা যে ভালো ভাবে নেয়নি সেটা বোঝা গিয়েছিল। এমনকি তাঁকে সাসপেন্ড করা হতে পারে, সেটাও আন্দাজ করাই গিয়েছিল।

রাজ্যে পুলিশের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গিরিধারী নায়েক বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে নিজের চাকরির নিয়ম-বিরুদ্ধ কাজ করেছেন বর্ষা ডোঙ্গরে। তাই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন: ‘আদিবাসী মহিলাদের বিবস্ত্র করে অত্যাচার করা হয়’, ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট রায়পুর জেল আধিকারিকের

রাজ্যের ডিআইজি কেকে গুপ্তা বলেন, কেন ফেসবুকে তিনি ওই পোস্ট করেছেন তার জবাব দেওয়ার জন্য তাঁকে দু’দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি জবাব দেননি, এমনকি অনুমতি ছাড়াই তিনি ছুটি নিয়েছিলেন। গুপ্তার দাবি, রাষ্ট্রের কোনো নীতির ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত ব্যক্ত না করার জন্য সমস্ত আধিকারিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বর্ষাদেবী সেই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছেন।

মজার কথা, ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য এক আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হলেও, একই অপরাধে দোষী অন্য একজনকে শুধুমাত্র ‘শো-কজ’ নোটিশ দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশ অফিসার এসআরপি কাল্লুরি। একটি বেসরকারি সংস্থার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সে ব্যাপারে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন তিনি। শুধু তিনিই নন ‘শো-কজ’-এই ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন আরও এক পুলিশ অফিসার ইন্দিরা এলেসেলা। মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তিনি বলেন, “মানবাধিকার কর্মীদের গাড়ির তলায় চেপে মেরে ফেলা উচিত।”

বর্ষাদেবীকে সাসপেন্ড এবং কাল্লুরি বা এলেসেলার ছাড় পাওয়া থেকেই প্রমাণিত হয়ে যায় ছত্তীসগঢ় সরকারের দ্বিচারিতা। রাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে যে মুখ খুলবে তাকেই সাজা পেতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here