মুম্বই: রাতের অন্ধকারে চিতা আক্রমণ করলে এখন অন্তত দেখতে পারবেন ওরা। কারণ গ্রামে আলো এসেছে। স্বাধীনতার সত্তর বছর পর।

মহারাষ্ট্রের পালগড় জেলার ভাসাইয়ের দেবকুন্ডি জামবুলপাড়া। গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথমবার বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে উঠল এই গ্রামের ঘরগুলোতে। আলোকিত হল রাস্তাঘাট। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বাস গ্রামবাসীদের মধ্যে।

যদিও আয়তণে খুব ছোটো এই গ্রাম। জনসংখ্যাও কম। মাত্র ১০০। এঁরা প্রায় সকলেই ক্ষেতমজুরের কাজ করেন। এত দিন বন্যপ্রাণীর আক্রমণের ভয়ে দিনের আলো ঢলার আগেই ঘরে ফিরতে বাধ্য হতেন তাঁরা।পড়ুয়ারা লম্পো জ্বালিয়ে পড়াশোনা করত। বেশ কয়েক জন তো এই অসুবিধের জন্য গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলেও গেছেন।

অথচ গ্রামের ভৌগলিক অবস্থান কিন্তু এখানকার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ শহর মিরা আর ভাইংদরের খুব কাছে। মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে। তা ছাড়া গ্রামের পাশেই রয়েছে মুম্বই-আহমেদাবাদ জাতীয় সড়ক ৮। তাও বিদ্যুতের সুবিধে থেকে বঞ্চিত ছিল এই এলাকা।

বহুবার বলেও, অনেক অনুরোধ-উপরোধ করেও লাভ হয়নি। যেখানকার জল সেখানেই থেকে গিয়েছিল।

অথচ আশ্চর্যের বিষয় মাত্র কয়েক মিটার দূরেই ১৫ বছর ধরে রয়েছে আলো ঝলমলে রিসোর্ট, হোটেল।

অবশেষে এই সাফল্য এসেছে ‘ভুমিপুত্র রোজগার হক সংরক্ষণ সমিতি’-র সুশান্ত পাতিল নামের এক জন সমাজসেবীর হাত ধরে। বহু চেষ্টাচরিতেও কাজ হল না দেখে গত বছর তিনি দারস্থ হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের।

জঙ্গল ঘেরা এই গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের  দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনার অধীনে।

পাতিল বলেন, তিনি এর জন্য বিজেপি সরকারের কাছে ও মহারাষ্ট্রের বিদ্যুৎমন্ত্রী চন্দ্রশেখর ভাওয়াঙ্কুলের কাছে কৃতজ্ঞ। খুব দ্রুত কাজ হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মহারাষ্ট্র স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। গ্রামে মোট ৯টা বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়েছে। প্রত্যেক ঘরে বিনামূল্যে মিটার, এলইডি বাল্ব, তার ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here