কৃষক বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে মধ্যপ্রদেশে, আগুন, সংঘর্ষ, মান্দসোরে নিগৃহীত জেলা কালেক্টর

0
268

ভোপাল: কৃষক বিক্ষোভের আঁচ ক্রমশই মধ্যপ্রদেশের মান্দসোর জেলা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও। দেওয়াস, উজ্জয়ন এবং নিমাচ জেলাতেও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। থানা তছনছ করা হয়েছে, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে কৃষকদের সংঘর্ষ বেধেছে। মান্দসোরের জেলা কালেক্টর ও এসপিকে কৃষকদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছে। প্রাক্তন সাংসদ মীনাক্ষী নটরাজনকে আটকে রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন সুহাত্রা থানার বড়োকর্তা। বুধবার কংগ্রেসের ডাকে মধ্যপ্রদেশ বনধ্‌-এ মিশ্র সাড়া মিলেছে। এই অবস্থায় পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কেন্দ্রের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছে শিবরাজ সিং চৌহানের সরকার। আবেদনে সাড়া দিয়ে কেন্দ্র অতিরিক্ত সিআরপিএফ ও র‍্যাফ পাঠাচ্ছে।

খরাগ্রস্ত এলাকায় ঋণের দায়ে জর্জরিত কৃষকরা। এই প্রেক্ষিতে গত ১ জুন চলছে কৃষকদের আন্দোলন। তাদের দাবি সরকারকে ন্যায্য মূল্যে তাদের শস্য কিনতে হবে, খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য উপযুক্ত খামার প্যাকেজ দিতে হবে আর কৃষিঋণ মুকুব করতে হবে। এই দাবিতে মঙ্গলবার কৃষকরা যখন পিপলিয়া টোল নাকায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তখনই গুলি চলে। গুলিতে ৬ জনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলিচালনার জন্য যখন পুলিশকে দায়ী করছে, তখন পুলিশ তা বেমালুম অস্বীকার করে বলছে, সমাজবিরোধীরা এই কাণ্ড করেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মান্দসোর শহর ও পিপলিয়া মান্ডি থানা এলাকায় কারফিউ এবং জেলার বাদবাকি অংশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

বুধবার কৃষকরা মান্দসোর শহর থেকে ১৮ কিমি দূরে বেড়খেড়া পন্থ এলাকায় পথ অবরোধ করে। প্রতিবাদী কৃষকদের শান্ত করতে এসপি ওমপ্রকাশ ত্রিপাঠীকে নিয়ে জেলা কালেক্টর এস কে সিং ঘটনাস্থলে হাজির হলে, তাঁকে বিক্ষোভকারীরা নিগ্রহ করে বলে অভিযোগ। “বিক্ষোভকারীরা জেলা কালেক্টরকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করলে আমরা তাঁকে নিরাপদে বার করে দিই” – জানালেন বেড়খেড়া পন্থের সরপঞ্চ দীনেশ। জেলা কালেক্টরকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর এসপিকেও নিগ্রহ করে জনতা। ঘটনা নিয়ে তাঁর মন্তব্য জানার জন্য জেলা কালেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কিছু জানাতে অস্বীকার করেন।

ও দিকে মঙ্গলবারের ঘটনায় নিহতদের পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করার জন্য মান্দসোরের প্রাক্তন সাংসদ এবং কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজন যখন যাচ্ছিলেন তখন নাহারগড়ে তাঁকে আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কংগ্রেসের ডাকে বনধ্‌-এ রাজ্যের পশ্চিম অংশে জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। কিছু হিংসাত্মক ঘটনাও ঘটে। নিমাচ জেলার বেচারিককালে একটি পুলিশ চৌকিতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। দেওয়াস জেলার হাটপিপালিয়া থানার সামনে দাঁড় করানো একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উজ্জয়নে কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ জন পুলিশ জখম হন। ৩ জন কৃষকও আহত হন। বনধ্‌-এ ভোপাল শহরে অবশ্য পেট্রোল পাম্প, ব্যাঙ্ক এবং অফিসকাছারি খোলা ছিল।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here