জেলে শশীকলার ২ কোটির রান্নাঘর, ডিজির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ডিআইজির

0
721

বেঙ্গালুরু : ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’। ২ কোটি টাকা দিয়ে জেলের মধ্যেই এলাহি রান্নাঘর তৈরি করিয়েছেন ভি কে শশীকলা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত করতে গিয়ে কারাগার-প্রশাসনের দুর্নীতি-জর্জরিত চেহারা উঠে এল। কার্যত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলের দুই পুলিশকর্তার মধ্যে বাগবিতণ্ডা চরমে উঠেছে। শশীকলার এই কাণ্ড নিয়ে রিপোর্ট দেন ডিআইজি (কারা) ডি রূপা। এই রিপোর্টে রূপা জানিয়েছেন, শশীকলা কারাগারের নিয়ম লঙ্ঘন করছেন। রূপা তাঁর ঊর্ধ্বতন ডিরেক্টর জেনারেল (কারা) এইচ এন সত্যনারায়ণ রাওকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত করেছেন। কিন্তু রাও দাবি করেছেন, আদালত শশীকলার সঙ্গে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি কেবলমাত্র আদালতের নির্দেশ মেনে চলছেন। রূপার রিপোর্টকে ‘মিথ্যা’ বলেছেন রাও। রূপা বলেছেন, তাঁর রিপোর্ট পুরোপুরি সত্যি। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া গোটা ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন সম্পদ মামলায় চার বছরের কারাবাস হয়েছে এআইএডিএমকে প্রধান শশীকলার। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা অগ্রহরা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি। সেখানেই তিনি বিলাসবহুল রান্নাঘরের ব্যবস্থা করিয়ে নিয়েছেন।

ডিজি রাও সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই রিপোর্টে কোনো সত্যতা নেই। ঘুষ নিয়ে শশীকলাকে বিশেষ সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রাও। তিনি বলেন, ডিআইজি রূপা যদি কারাগারের মধ্যে কোনো রকম অনিয়ম দুর্নীতি দেখে থাকেন, তা হলে তাঁর উচিত ছিল সেটা জানানো। রাও বলেন, তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রস্তুত।

অন্য দিকে ডিআইজি রূপা বলেছেন, সরকার অনুমোদিত দেড় বছরের ছুটিতে ছিলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি আবার কাজে এসেছেন। ফিরে এসেই তিনি এই সব দুর্নীতি দেখেন। তিনি বলেন, যদি দুর্নীতি দেখেও জানানো না হয় তা হলে তা ভ্রষ্টতা। তাই তিনি এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন। তিনি বলেন, নিয়মভঙ্গকারী দোষীদের সত্বর সাজা হওয়া উচিত।

ডিআইজি রূপা তাঁর রিপোর্টে আবদুল করিম তেলগিকে দেওয়া বিশেষ সুবিধের কথাও উল্লেখ করেন। কোটি কোটি টাকার স্ট্যাম্প পেপার কেলেঙ্কারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তেলগি।

এই দু’টি ঘটনা ছাড়াও, ২১ জন কারাবন্দির রক্তে মাদক পরীক্ষার বিষয়টি এই রিপোর্টে তুলে ধরেন তিনি। উল্লেখ্য, এদের মধ্যে ১৮ জনের রক্তের নমুনাতেই মাদকাসক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। রিপোর্টে তাদের নাম আর কী ধরনের মাদক রক্তের নমুনায় পাওয়া গেছে তার একটা তালিকাও পেশ করা হয়েছে। তাতে বেশির ভাগের রক্তেই গাঁজার নমুনা পাওয়া গেছে। তা ছাড়া চার জনের রক্তে বেনজোডিয়াজেপিন নামে এক রকমের মাদক পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি দেখেও তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি, এই মর্মেও একটা আলাদা রিপোর্ট পেশ করেছেন রূপা। এ ছাড়াও চিকিৎসক ও নার্সের সঙ্গে অভব্য আচরণের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন রিপোর্টে।

ডিআইজি রূপা বলেছেন, তিনি এই বিষয়ে ডিজিকে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

অপর দিকে ডিজি রাও বলেন, তিনি এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো চিঠি পাননি। আরও বলেন, ডিআইজি রূপার নজরে তেমন কিছু এলে তা প্রথমে মিডিয়াকে না জানিয়ে তাঁকে জানানো উচিত ছিল।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here