দেশ জুড়ে ছড়িয়েছে শিশুদের ভাইরাল জ্বর, এখনই জানুন এটা কী এবং কী ভাবে তাদের সুরক্ষিত রাখবেন

0
উত্তরবঙ্গের একটি হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন মায়েরা। প্রতীকী ছবি

জ্বর হলে শিশুকে কখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত, জানুন বিস্তারিত…

নয়াদিল্লি: গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ ও মথুরা থেকে রহস্যময় ভাইরাল জ্বরে শিশুদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এই জ্বরে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে শুধুমাত্র এক মাসে ১০০ জনেরও বেশি মারা গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য জেলা, যেমন – কানপুর, প্রয়াগরাজ এবং গাজিয়াবাদ থেকেও এই অজানা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা জানা যাচ্ছে। তা হলে কি এই ভাইরাল জ্বর শুধু উত্তরপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ? মোটেই না। দিল্লি, বিহার, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গেও শিশুদের জ্বর দেখা দিয়েছে, তবে এই রাজ্যগুলির সব ক’টিতেই যে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তেমন তথ্য নেই।

এখনই কেন হচ্ছে?

সাধারণ ভাবে দেখা যায়, বছরে ৬-৮ বার বাচ্চাদের শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ঘটে থাকে। কোভিড-১৯ লকডাউন তুলে নেওয়ার পর থেকেই শিশুরা বাইরের জগতের সংস্পর্শে আসায় যে কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। দ্বিতীয় কারণ হল, বাসি খাবার ও দূষিত পানীয় জলের কারণে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Shyamsundar

ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া থেকে স্ক্রাব টাইফাস পর্যন্ত বিস্তৃত ভাইরাল সংক্রমণ আগস্ট মাস থেকে শিশুদের আক্রান্ত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালেই ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার মতো ভেক্টরবাহিত রোগগুলি ছড়িয়ে পড়ে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এডিস মশাবাহিত রোগ, যা পরিষ্কার জলে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। ম্য়ালেরিয়া রোগ ছড়ানো অ্যানোফিলিস মশা পরিষ্কার ও নোংরা বা কর্দমাক্ত জল- উভয় জায়গাতেই বংশবিস্তার করতে পারে। দিল্লির এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কথায়, “এই সব সংক্রমণের জেরে দুর্বলতা ও অলসতা দেখা দেয়। রোগীর শরীরে ব্যাথার সৃষ্টি হয়। এই জ্বরগুলির শুধুমাত্র লক্ষণীয় চিকিত্‍সা হল কখনোই ডিহাইড্রেশন না হতে দেওয়া”।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, ভাইরাল ফ্লু ছাড়াও আমাদের দেশে ডেঙ্গির প্রভাব রয়েছে। প্রতিদিন ৫-৬টি ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু হাসপাতাগুলিতে আসছে। বেশির ভাগ শিশুর জ্বর, শরীরের ব্যাথা, পেটের লক্ষণ ও রক্ত পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। কিছু আক্রান্তের রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়ায় হাসপাতালে ভরতি করার দরকার হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে রক্তপাত হলে এবং প্লেটলেট খুব কমে গেলে প্লেটলেট ট্রান্সফিউশন দরকার

কেন গত বছর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি কেন

গত বছর, কোভিড -১৯ মহামারি এবং লকডাউনের কারণে হাসপাতালগুলিতে জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের সামগ্রিক সংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল। পোকামাকড়-বাহিত রোগের ক্ষেত্রে সাধারণত জুলাই এবং নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট করা হয়, তবে এই সময়টি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়তে পারে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

স্ক্রাব টাইফাস আরও মারাত্মক!

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্ক্রাব টাইফাসের ঘটনা আরও মারাত্মক হতে পারে। এক চিকিৎসক জানান, “ছ’-সাত বছর বয়সি এক রোগী এসেছিল, যার প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বর ছিল। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তার স্ক্রাব টাইফাস ধরা পড়ে এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কখনও কখনও, রোগটি মারাত্মক হতে পারে। তার কোনো গুরুতর রোগ ছিল না এবং তাকে কিছু ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই অবস্থাকে মোটেই মহামারি পরিস্থিতিতে যেতে দেওয়া উচিত নয়। সমস্ত জ্বরের ঘটনাকেই সন্দেহের চোখে দেখা উচিত। এ ক্ষেত্রে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠেছে, কিন্তু এটাই মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারত”।

সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে আপনি কী করবেন

*সতর্কতা এবং সচেতনতার প্রয়োজন

*মশার প্রজনন স্থানগুলি ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত এবং বাড়িতে কোনো জমা জল থাকা উচিত নয়।
*বাড়ির বাইরে যদি কোনো জায়গায় বৃষ্টির জল জমে, তা হলে জল পরিষ্কার করুন অথবা সেই জায়গাগুলো বুজিয়ে ফেলুন।

*বাচ্চারা যখন বাইরে যাচ্ছে তখনই মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।

*শিশুদের বাসি খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

জ্বর হলে শিশুকে কখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত

যে কোনো রহস্যজনক রোগ বা জ্বর তিন-চার দিনের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিত্‍সককে জানান। যদি কোনো শিশুর জ্বর ১০৩- ১০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকে এবং খাবার বা তরল কোনো কিছুই মুখে না তুলতে চায়, শরীরের ব্যাথায় অনবরত কেঁদেই চলে, গায়ে-হাতে র‍্যাস বের হয় এবং প্রস্রাবও কম হয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভরতির ব্যবস্থা করুন।

আরও পড়ুন: অল্পতেই রেগে যাওয়া থেকে মুক্তির উপায় কিছু অনুশীলন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন