কাশ্মীরে ছোট্টো মেয়ের হেঁটে যাওয়ার ভাইরাল ছবিটি ২০১৯ নয়, ২০১৬ সালের তোলা, দাবি এএফপির

viralphoto
ভাইরাল হওয়া সেই ছবি

ওয়েবডেস্ক: ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর ফেসবুক-টুইটারে একটি পোস্ট বহুবার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্ট করা সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি মেয়ে বই পড়তে পড়তে বিশাল এক সেনা বাহিনীর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এই ছবিটি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরই এই ছবিটি তোলা হয়েছে। কিন্তু এএফপি জানিয়েছে, ছবিটি ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ধারা বাতিলের পর তোলা নয়। ছবিটি তোলা হয়েছে, ২০১৬ সালে। সেই সময়ও এই এলাকায় অশান্তি চলছিল। 

ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা হয়েছে একটি পেজের মাধ্যমে। এই পেজের ফলোয়ার্সের সংখ্যা চার লক্ষ। পোস্টটিতে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর কাশ্মীরে তোলা সেরা ছবিগুলির একটি।  

প্রসঙ্গত, ৩৭০ ধারা জম্মু কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা দিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট সেই মর্যাদা বাতিল করেছে কেন্দ্র।

এএফপির দাবি, এই পোস্টের ওপর টেকস্টটি সুপার ইমপোজ করে বসানো হয়েছে। তাতে লেখা আছে, ‘শিশুটি জানে কাশ্মীরে সে নিরাপদ। কাশ্মীরের আরও একটি ভালো ছবি। যারা আজাদ কাশ্মীরের দাবি জানাচ্ছে, এই ছবিটি তাদের মুখের ওপর ছুঁড়ে দাও’।

ওই পেজের স্ক্রিন শট

সংস্থা জানিয়েছে, এই দাবি মিথ্যে। এই ছবিটি তুলেছিলেন চিত্রগ্রাহক আশিস শর্মা। একটি ‘ওপেন ম্যাগাজিনে’র জন্য ২০১৬ সালে।

এই ছবি আসলে যে ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছিল সেই ওয়েবসাইটটি হল –  

ওয়েবসাইটটির স্ক্রিনশট

চিত্রগ্রাহক আশিস শর্মা এএফপিকে মেসেজ করে জানিয়েছেন, তিনি এই ছবিটি তুলেছিলেন ২১ আগস্ট, ২০১৬ সালে। শ্রীনগরের পুরনো শহরে। তিনি ২০১৬ সালের ২৯ আগস্টে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এই ছবিটি পোস্টও করেছিলেন। তাতে ক্যাপশন ছিল, ‘রনেস অব ইনোসেন্স’। সঙ্গে #India #Kashmir #Curfew #Hope।

উল্লেখ্য আশিসের এই ছবিটি মুম্বই প্রেস ক্লাব রেড ইঙ্ক অ্যাওয়ার্ড ২০১৭-এর ‘বিগ পিকচার’ ক্যাটেগরিতে শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছিল।

উল্লেখ্য আজাদ কাশ্মীর বলতে বোঝায় আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নামমাত্র স্বাশাসিত এলাকা।

একবার পোস্ট করার পরই ছবিটি হু হু করে একাধিক প্রোফাইলে পোস্ট হয়েছে –

শেয়ার হওয়া পোস্ট

 টুটারেও এই ছবিটি একই ভাবে পোস্ট হয়েছে। তা আবার রিটুইটও হয়েছে। –

সৌজন্য : ফার্স্টপোস্ট.কম

৩৭০ ধারা সংক্রান্ত আরও খবর পড়তে হলে ক্লিক করুন

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.