NRC kolkata press club

কলকাতা: বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে অসমের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে উদ্গত সমস্যার উপর তথ্যানুসন্ধান রিপোর্ট পেশ করল ‘ইউনাইটেড এগেন্সট হেট’। সংগঠনের ১২ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল নিম্ন অসমের বরপেটা, গোয়ালপাড়া, কোকরাঝাড়, বঙ্গাইগাঁও এবং গুয়াহাটি থেকে প্রাপ্ত সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নাগরিকপঞ্জি তৈরিতে রাষ্ট্রের উদাসীনতা প্রকট ভাবে ধরা পড়েছে। পাশাপাশি সঠিক পন্থা অবলম্বন না করে মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও নমুনা ধরা পড়েছে।

ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স বা নাগরিকপঞ্জী রচনার কাজে যে ভাবে বিচারবিভাগীয় দায়বদ্ধতার অভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলি নগ্ন হয়ে গিয়েছে, সে সব ঘটনাগুলিকেই বিশদ তথ্য-সহ তুলে ধরা হয়েছে ওই রিপোর্টে। উল্লেখ্য, এই তথ্যানুসন্ধানের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি এস আর দারাপুরী-সহ অন্যান্যরা। গত ২৬-৩০ জুন, টানা পাঁচ দিনের সরজমিনে পর্যবেক্ষণের পরই এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন তথ্যানুসন্ধানকারীরা।

রিপোর্টে প্রমাণ-সহ দাবি করা হয়েছে, “বহু মানুষ যাঁরা এনআরসি-র নোটিস হয় পাননি অথবা দেরিতে পেয়েছেন, তাঁরা সময়ে সমস্ত নথিপত্র জোগাড় করে ফরেন ট্রাইবুনালে উপস্থিত হতে পারেননি। এর ফলে এঁদের প্রত্যেককে বিদেশি ঘোষণা করে দেওয়া হয়। লক্ষ লক্ষ ডি-ভোটার (ডাউটফুল ভোটার) ঘোষিত হয়ে যাওয়া মানুষ কাগজপত্র-সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরে মরছেন। ভোট দিতে গিয়ে অথবা সোজা গ্রেফতার হওয়ার পরেই এঁরা জানতে পারেন যে তাঁরা ডি-ভোটার হয়ে গিয়েছেন”।

এমন অভিযোগের সহায়ক সমস্ত রকমের প্রামাণ্যই স্থান পেয়েছে ওই বিস্তারিত রিপোর্টে। সংগঠনের তরফে নাগরিকপঞ্জীকে সঠিক পথে চালিত করার বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার কথাও ব্যক্ত করা হয়েছে বাস্তব ও যৌক্তিক পন্থাতেই।

কলকাতা প্রেস ক্লাবের এই অনুষ্ঠানে বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক অমিত সেনগুপ্ত, দেবাশিস আইচ এবং সমাজকর্মী নাদিম খান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here