হায়দরাবাদ: শহরের জনবহুল রাস্তায় লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল তাঁর স্বামীকে। জমেছিল ভিড়। বুধবারের সেই নৃশংস দৃশ্য মোবাইলের ক্যামেরায় ভরছিলেন অনেকে। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি তাঁর স্বামীকে বাঁচানোর কাতর আরজিতে। স্বামীহারা সৈয়দ আশরিন সুলতানা ওরফে পল্লবী পরে পুলিশকে জানান, খুনিরা অন্য কেউ নয়, তাঁর ভাই ও তার বন্ধু। তিনি সুবিচার চান।

কেন খুন হতে হল সুলতানার স্বামীকে?

হিন্দু যুবক বি নাগারাজু। বিয়ে হয়েছিল মুসলিম পরিবারের সুলতানার সঙ্গে। মাত্র দু’মাস আগে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন সুলতানা ও নাগারাজু। তার আগে থেকেই অবশ্য ঝামেলার সূত্রপাত। বিয়ের আগেই বাড়িতে দু’জনের সম্পর্কের কথা জানাজানি হতে নাগারাজুকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিজের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে পিছু হটেননি পেশায় সেলসম্যান নাগারাজু। যা শেষ হল, সম্মানরক্ষার নামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে। সুলতানা পুলিশকে জানিয়েছেন, হত্যাকারীদের মধ্যে এক জন তাঁর দাদা সৈয়দ মবিন আহমেদ। অন্য জন দাদার সঙ্গী মহম্মদ মাসুদ আহমেদ।

স্কুল থেকেই দু’জন দু’জনকে চিনতেন তাঁরা। একে অন্যের প্রেমে পাগল। নিজেদের ভালোবাসায় ভর দিয়ে বিশ্বাস করেছিলেন, জয়ী হবেনই। ধর্ম তাঁদের তো আগে কখনোই বিরক্ত করেনি! বিয়ের পরে নাম পরিবর্তন করে সুলতানা হন পল্লবী। স্বামী খুন হওয়ার দু’দিন পর নাগারাজুর বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। বলছেন, ওই বাড়িতেই তিনি থাকবেন স্মৃতি আঁকড়ে ধরে। ২১ বছর বয়সি শোকস্তব্ধ তরুণী বলেন, ভগবান কৃষ্ণর মতোই নাগরাজুর ছবি তিনি বুকে ধরে রাখবেন। আমৃত্যু। সঙ্গে চলবে সুবিচার পাওয়ার লড়াই।

কাকুতি-মিনতিতে সাড়া দেননি কেউ

প্রকাশ্য রাস্তাতেই নাগারাজুকে কুপিয়ে খুন করা হয়। স্ত্রীর সাহায্যের আকুতি সত্ত্বেও এগিয়ে আসেননি কেউ। বুধবারের নারকীয় ঘটনার বলতে গিয়ে বাঁধ মানছিল না তাঁর। বলেন, “আমরা একটা বাইকে করে যাচ্ছিলাম। রাস্তা পার হওয়ার জন্য একটু গতি কমিয়েছিল সে। হঠাৎ দু’টো বাইক চলে এল। আমি বুঝতে পারিনি যে তার একটাতে রয়েছে আমার ভাই। তারা আমার স্বামীকে ধাক্কা দিলে সে পড়ে যায়। এর পর নির্মম ভাবে মারতে শুরু করে। তাকে রড দিয়ে মারে। আমি যখন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি, তখন আমার ভাইয়ের বন্ধুরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। আমি সাহায্যের জন্য আকুতি করেছিলাম। কিন্তু অনেকেই তখন ভিডিও তুলেছিল”।

কিছুক্ষণের মধ্যে সব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের হাতেও যথেষ্ট সময় ছিল। হামলা বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারতেন তাঁরা। কারণ, হামলাকারী সংখ্যা নেহাতই কম। কিন্তু কেউ-ই সাহায্য করার তাগিদ অনুভব করেননি। কাকুতি-মিনতি করলেও কেউ হয়তো নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাননি, অথবা অযথা ঝামেলায় জড়াতে চাননি তাঁরা।

১০-১৫ মিনিটে ৩০-৩৫ বার রডের আঘাত

গলা ভারী হয়ে আসে সদ্য স্বামীহারা তরুণীর। বলেন, “১০-১৫ মিনিট ধরে চলে হামলা। এই সময়ের মধ্যেই ৩০ থেকে ৩৫ বার রড দিয়ে আঘাত করা হয় আমার স্বামীকে। তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। রক্তে ভিজে ছিল, থেঁতলে গিয়েছিল তাঁর মাথা। আমি হাত দিয়ে ছুঁতে যাই। পিছলে যায়। সমাজকে বিশ্বাস করে আমি সময় নষ্ট করেছি। কেউ সাহায্য করেনি। হয়তো আমি এটা না করে স্বামীকে সাহায্য করার জন্য় অন্য কিছু করতে পারতাম। আমি ভাবতে পারিনি, আমার ভাই তাঁকে মেরে ফেলবে। আর বিশ-পঁচিশ জন দাঁড়িয়ে দেখবে, কেউ আটকাবে না”।

নাগারাজুর বাড়িতে এসে সুলতানা বলেন, “এটা তার ছোটোবেলার বাড়ি। আমার মনে হচ্ছে, সে আমার সঙ্গেই আছে”। পুত্রহারা পরিবার আঁকড়ে ধরেছেন পুত্রবধূকে। শাশুড়ি তাঁকে ফলের রস খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোথায় কী! দু’জনেই ভেঙে পড়েন কান্নায়। যতই হোক, এক জনের স্বামী। অন্য জনের পুত্র। রাস্তায় পড়ে আছে দেহ। শরীরে চাপ চাপ রক্ত। মাথার টুকরো টুকরো অংশ মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সে দৃশ্য যে কিছুতেই ভুলবার নয়!

তথ্য এবং ছবি: এনডিটিভি-র সৌজন্যে

আরও পড়তে পারেন: 

আরজি কর নয়, আলিপুর কমান্ড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে বিজেপি কর্মীর, নির্দেশ হাইকোর্টের

মমতা বলেছিলেন রসগোল্লা-দই খাওয়াতে, অমিত শাহের আপ্যায়নে সে সবই কি রাখছেন সৌরভ?

‘অনেকের জীবন নষ্ট করার ভয়ংকর পরিণতি’, সুতপা খুনে উদ্ধার শেষ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ

জুলাইয়ে হতে পারে আরেক দফায় ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা, জানুন কতটা বাড়তে পারে

সহবাসের পর বিয়েতে নারাজ, প্রেমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের যুবতীর

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন