নাগপুর: কী খাবেন, কী পরবেন, কী ভাবে জন্মদিন পালন করবেন, সেটা এখন থেকে আপনি নয়, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ঠিক করে দেবে।

মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা নিয়ে একটি প্রচার শুরু করেছে আরএসএস। গত এপ্রিলে শুরু হওয়া এই প্রচারের তারা নাম দিয়েছে ‘কুটুম্ব প্রবোধন’, যার মানে পারিবারিক কাউন্সেলিং। মানুষ যাতে ‘ভারতীয় সংস্কৃতি’ থেকে সরে না আসে, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রচার শুরু করা হয়েছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করবে তারা।

আরএসএসের মতে নিরামিষ খাওয়া এবং শাড়ি পরাই ‘ভারতীয় সংস্কৃতি’-এর মধ্যে পড়ে। এর থেকে দূরে সরে গেলে সেটা নাকি ‘বিদেশি সংস্কৃতি’ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে দু’জন করে স্বয়ংসেবক এবং রাষ্ট্রীয় সেবিকা সংঘের (আরএসএসের মহিলা শাখা) এক জন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ‘মূল্যবোধ’-এর পাঠ দেবে।

এই কর্মসূচি শুরুও করে দিয়েছে আরএসএস। গত সপ্তাহেই নাগপুর নিবাসী সুরেশ দেশপাণ্ডের বাড়িতে ‘মূল্যবোধ’ শেখানোর জন্য হাজির হন আরএসএস নেতা অশোক ভট্ট। উৎসবের দিনে শাড়ি এবং পাজামা-পাঞ্জাবি পরতে ‘নির্দেশ’ দেওয়ার পাশাপাশি দেশপাণ্ডে পরিবারকে তারা জানিয়েছে মোমবাতি নিভিয়ে এবং কেক কেটে জন্মদিন পালন করা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে।

খাওয়ার আগে মন্ত্রোচ্চারণ করার পাঠও দেশপাণ্ডে পরিবারকে পড়িয়েছে আরএসএস। সেই সঙ্গে বলেছে, সপ্তাহে অন্তত একবার পরিবারের সকল সদস্যের একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করা উচিত এবং তখন যেন টিভি বন্ধ রাখা হয়।

সেই সঙ্গে আরএসএসের মুল্যবোধের পাঠে তারা জানিয়েছে, পারিবারিক সময়ে রাজনীতি এবং ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা থেকে মানুষের বিরত থাকা উচিত। সেই সঙ্গে জাতপাত দূর করা এবং নারীর সম্মানের কথাও বলেছে তারা। ভালো ভালো বই পড়ারও বিধান দিয়েছে অশোক ভট্টরা।

তবে আরএসএসের এই মূল্যবোধের পাঠকে ইতিবাচক ভাবেই নিয়েছে দেশপাণ্ডে পরিবার। সুরেশবাবুর মতে, “আমরা কী খাই,আমাদের প্রিয় টিভি শো, আমাদের প্রসাধন, কী ভাবে আমরা জন্মদিন উদযাপন করি, এই সব বিষয়েই খোঁজখবর করেছিল তারা।”

তাদের এই কর্মসূচিতে আশানরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে, এমনই বলেন ওই আরএসএস নেতা। আর একজন আরএসএস নেতা অতুল পিংলে বলেন, মানুষ এখন ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, তাই এখনই এই মূল্যবোধের পাঠ দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং সৌহার্দ্য বাড়ানোর পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমরা অদূর ভবিষ্যতেই খ্রিস্টান এবং মুসলিমদের বাড়িতেও যাব।”

গত বছর বিআর অম্বেডকরের ১২৫তম জন্মদিন উপলক্ষে, ‘একটি গ্রামে সবার জন্য একটি মন্দির, একটি কবরস্থান এবং একটি কুয়ো’ কর্মসূচি চালু করেছিল আরএসএস। সেই কর্মসূচির নতুন সংস্করণ এই ‘কুটুম্ব প্রবোধন’।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনগুলিতে বিজেপি কেমন ফল করতে পারে সেটার প্রাথমিক পর্যালোচনা করার জন্যই এই কর্মসূচি নিয়েছে আরএসএস।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন