নাগরিকত্ব বিলের সংশোধনী থেকে ৬ বছরের আবাসিক নিয়ম মুছে দেওয়ার দাবি রাজ্য বিজেপির

0
Amit Shah

ওয়েবডেস্ক: অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি-র পর পশ্চিমবঙ্গেও একই দাবিতে সরব হয়েছে রাজ্য বিজেপি। এনআরসির সঙ্গেই সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল বা সিএবি নিয়েও সরব হয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। বুধবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের কাছে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, সিএবি থেকে ‘ছ’বছরের আবাস’ নিয়মটি বাদ দেওয়া হোক।

রাজ্য বিজেপির সূত্র মতে, সংসদের আগামী শীতকালীন অধিবেশনেই সিএবি পুনরায় পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র। নাগরিকত্ব আইনের এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং পারসিরা এ দেশে মাত্র ছ’বছর বাস করলেও নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। যদিও বর্তমান আইন অনুযায়ী, এ দেশের এই সম্প্রদায়ের মানুষ ১২ বছর বাস করার পরেই ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে সায়ন্তন বলেন, “কেউ যদি তাঁর ধর্ম ও সম্মান বাঁচাতে এ দেশে আশ্রয় নেন, তবে ৬ বছরের আবাসিক ধারাটির বদলে তিনি শুধুমাত্র হলফনামা দাখিল করেই নাগরিকত্ব পেতে পারেন। তবে কেউ ওই মর্মে হলফনামা জমা দেবেন কি না, তা নিশ্চিত করার জন্যেও আইন থাকা উচিত”।

sayantan basu
বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। ফাইল ছবি

একই সঙ্গে বিজেপি নেতা বলেন, “আসল কারণ অনুসন্ধান করার জন্য পদ্ধতিগত যাচাইকরণ হতে পারে এবং তার পরে সেই ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেওয়া যেতে পারে”।

সায়ন্তনের কথায়, সিএবি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। কী কারণে এই পরিবর্তনের দাবি?

এ প্রসঙ্গে এক বিজেপি নেতা দাবি করেন, “সিএবি নিয়ে ইতিমধ্যেই অপপ্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা বলছে, কোনো এক ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব পেতে ছ’বছর অপেক্ষা করতে হবে, এটা মোটেই এক জন সাধারণ মানুষের কাছে সুখের বিষয় নয়”।

যে কারণে আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামতে চাইছে বিজেপি। ওই নেতা বলেন, “এখন থেকেই নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল নিয়ে সাধারণের কাছে স্পষ্ট মত গড়ে তোলা উচিত। কারণ, এনআরসি নিয়ে বিতর্কের সময়ই অনেকে সিএবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করছেন। কেউ কেউ বলছেন, নাগরিকত্ব পেতে যদি ছ’বছর সময় লেগে যায় এবং তার পরে যদি তিনি নাগরিকত্ব আদায়ে ব্যর্থ হন, তা হলে কি তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে”?

[ আরও পড়ুন: এনকাউন্টারে খতম জাকির মুসার উত্তরসূরি জঙ্গি প্রধান হামিদ লেলহরি ]

প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসে অসমের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, সেখান থেকে বাদ পড়েছে ১৯.৬ লক্ষেরও বেশি নাম। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এঁদের মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দু রয়েছেন। রাজ্য বিজেপির দাবি, এই বিষয়টিকে তুলে ধরেই মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে তৃণমূল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.