dawood ibrahim
saibal biswas
শৈবাল বিশ্বাস

এ বার খোদ পশ্চিমবঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের সাম্রাজ্য‌ে আঘাত হানল পুলিশ। এর পর বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং সেখান থেকে গোটা উত্তর ভারত ছড়িয়ে ব্য‌বসা করাটা কত দিন ধরে সম্ভব হবে তা নিয়ে ডি কোম্পানি যথেষ্ট চিন্তিত। ডি কোম্পানির এ কাজের প্রধান শরিক পাক এজেন্সি আইএসআই-ও এ ব্য‌াপারে যথেষ্ট চিন্তায় পড়েছে।

আসলে গত বেশ কয়েক বছর ধরে ব্য‌বসার রীতিপ্রকৃতি কিছুটা পালটে ফেলেছিল দাউদ। তার যে ব্য‌বসায় সব চেয়ে বেশি লাভ হয় সেই ড্রাগ পাচারের ব্য‌বসা আর সিধে রাস্তায় করা সম্ভব হচ্ছিল না। সীমান্তে কড়া পাহারার দরুন মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ থেকে অসম-পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার ক্ষেত্রে তাঁকে বেশ কিছু অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আসলে পরিচিত সব ক’টি রুটই ভারতীয় এজেন্সির জানা হয়ে গিয়েছে, বিশেষ করে এনআইএ (ন্যাশনাল এন ভেস্টিগেশন এজেন্সি) সক্রিয় হয়ে পড়ায় দাউদের বহু লোক ধরা পড়ে যাচ্ছিল।

এই পরিস্থিতিতে স্থির হয় উৎপাদন করা হবে স্থানীয় স্তরে। তা হলে আর সীমান্ত পেরিয়ে ব্য‌বসার ঝুঁকি নিতে হবে না। পশ্চিমবঙ্গে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে এই কাজে ব্য‌বহার করা হচ্ছিল। আগে যেখান দিয়ে ড্রাগ পাচার করা হত সেই কালিয়াচক, সূতি, হিলি, বৈষ্ণবনগর, ভগবানগোলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে তারা আফিমের চাষ শুরু করে দেয়। এর জন্য‌ কৃষকদের মোটা টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্য‌বস্থা করা হয়।

পুলিশ একটু দেরিতে গোটা ব্য‌াপারটা আঁচ করতে পারে। ততক্ষণে প্রথম কয়েক বারের ফসল পাচারের ব্য‌বস্থা হয়ে গিয়েছে। এখানকার আফিম থেকে তৈরি গাঁজা, চরস, হেরোইন কৃষক পরিবারগুলির মাধ্য‌মে পাচার করা হত। এই কাজে পরিবারের গৃহবধূদেরও লাগানো হয়েছে। ঠিক যে ভাবে এক সময় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে চোলাই চোরাচালান করা হত ঠিক সেই একই কায়দায় ড্রাগ চলে যেত একেবারে মধ্য‌প্রাচ্য‌ে। মধ্য‌ এশিয়া-পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কিনিয়া পর্যন্ত ড্রাগ রুটে পশ্চিমবঙ্গের পারিবারিক চাষের মাধ্য‌মে উৎপাদিত আফিমেরও বড়ো অংশ থাকত।

poppy cultivationসম্প্রতি পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, মধ্য‌ ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির বেশ কয়েক জন জনপ্রতিনিধিও এ ধরনের চক্রের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছিল। পরে চক্রের অনেকটাই ধরা পড়ে যায়। পুলিশে্র বক্তব্য‌, হয়তো দশ হাজার হেক্টর জমিতে বেআইনি ভাবে আফিম চাষ করা হয়েছে, কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা নিজেরাই মুখ বুঁজে থাকায় পুরোপুরি তথ্য‌ প্রশাসনের কাছে এসে পৌঁছোয়নি।

সম্প্রতি মালদহের জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য ও জেলা পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ এই নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন। তাতে জানা গিয়েছে, গ্রামে গ্রামে প্রচার করা, বিশেষ কন্ট্রোল রুমের ব্য‌বস্থা করা ও গত দু’ বছরে বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচকে নিয়মিত পুলিশি টহলদারি ও ধরপাকড়ের ফলে আইএসআই এজেন্টরা আর আফিম চাষে কৃষকদের সক্রিয় করে তুলতে পারছে না। এর ফলে কোয়েটা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ড্রাগ লাইন এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এ ভাবে চলতে থাকলে যে অচিরেই দাউদ-সাম্রাজ্য‌ ভেঙে পড়বে সেটা বেশ ভালো করেই বোঝা যাচ্ছে। তবে পুলিশ মনে করছে, দাউদের স্লিপিং সেলগুলি এখনও সক্রিয়। তারা কী করে নজর এড়িয়ে ব্য‌বসা চালানো যায় তার ফিকির খুঁজছে। পালটা ব্য‌বস্থা হিসাবে পুলিশ স্থির করেছে, ড্রোনের মাধ্য‌মে নজরদারি চালানো হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here