sambhulal regar, afrazul, rajasthan

জোধপুর: জেলের মধ্যে থেকেই ভিডিও বার্তা পাঠাল মালদহের শ্রমিক আফরাজুলের খুনি শম্ভুলাল রেগার। আফরাজুলকে খুন করে সে যে এতটুকুও অনুতপ্ত নয়, সেই বার্তা দিল ওই ভিডিওয়।

গত ডিসেম্বরে মালদহের শ্রমিক আফরাজুলকে খুন করে শম্ভুলাল রেগার। শম্ভুলালের ভাইপো সেই খুনের ঘটনাটির ভিডিও শুট করে। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এর পরে শম্ভুলালকে গ্রেফতার করে রাজস্থান পুলিশ। বর্তমানে তার ঠিকানা জোধপুর সেন্ট্রাল জেল।

রবিবার রাতে শম্ভুলালের নতুন দু’টো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পৌঁছে যায়। জেলের মধ্যেই তৈরি করা সেই দু’টি ভিডিওর একটিতে সে বলে যে জেলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে সে, অন্যটিতে সে বলে আফরাজুলকে খুন করে সে কোনো ভুলই করেনি। তবে দু’টি ভিডিও-ই ছিল ইসলাম বিদ্বেষমূলক।

রাজসমন্দ পুলিশ শম্ভুলালের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করতে গিয়ে জানিয়েছিল, যে ‘হিন্দু বোন’-এর সম্মান রক্ষার জন্য আফরাজুলকে খুন করেছে বলে তার দাবি, সেই মহিলার সঙ্গে আদতে অবৈধ সম্পর্ক ছিল শম্ভুলালের। তবে নতুন ভিডিও বার্তায় সেই অবৈধ সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে শম্ভুলাল। পাশাপাশি তার এবং আরও অনেক ‘হিন্দু মেয়ের’ সম্মান রক্ষার জন্য এই কাজ যে সে আরও করতে পারে সে কথাও বলতে ভোলেনি সে।

অন্য একটি ভিডিওয় শম্ভুলাল অভিযোগ করেছে পশ্চিমবঙ্গের আরও এক বন্দির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, সে নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দিলেও, আদতে সে নাকি মুসলিম। শম্ভুলালের দাবি ওই ব্যক্তি তাকে জেলে খুন করতে পারে।

এ দিকে জেলের মধ্যে কী ভাবে এ রকম ভিডিও তৈরি করা হল, সে ব্যাপারে কোনো সূত্রই খুঁজে পাচ্ছে না জোধপুর পুলিশ। যে ফোনে এই ভিডিও নেওয়া হয়েছে সেটা উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সেন্ট্রাল জেলের সুপার বিক্রম সিংহ। তাঁর কথায়, “মোবাইল ফোনটা এখনও উদ্ধার করা হয়নি। তবে সে যে ব্যক্তির কথা বলছে সে মুসলিম নয়, পশ্চিমবঙ্গের ব্রাহ্মণই। তার থেকে শম্ভুলালের কোনো ক্ষতি হতে পারে, এমন কোনো অভিযোগও আমাদের কাছে আসেনি।”

তবে যে ভাবে জেলের নিরাপত্তা ডিঙিয়ে এ রকম ভাবে ভিডিও তৈরি করা হল, এবং সেটা ছড়িয়ে দেওয়া হল, তাতে মুখ পুড়েছে রাজস্থান পুলিশের। সুপারের মতে, জেলের বাথরুমে এই ভিডিও তৈরি করা হতে পারে। এই ব্যাপারে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন