rail

নয়াদিল্লি: হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনযাত্রা করতে হলে তৎকাল পদ্ধতিতে টিকিট কাটার ব্যবস্থা আছে। ট্রেন যাত্রা শুরু করার ২৪ ঘণ্টা আগে টিকিট কাটতে হয়। কিন্তু অনেক সময়েই অসাধু দালালচক্রের সক্রিয়তায় প্রকৃত যাত্রী টিকিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। যাত্রীরা দেখেন সকাল ১০টায় অনলাইন বুকিং শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব আসন সংরক্ষিত হয়ে যায়। অথচ অনলাইন বুকিং-এর সময়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ফিল আপ করে পেমেন্ট গেটওয়েতে পৌঁছোতে এক জন যাত্রীর অন্তত দু’ মিনিট সময় লাগে। যাত্রীদের স্বার্থে এই সমস্যা দূর করতে কড়া ব্যবস্থা করেছে ভারতীয় রেল।

দেখে নেওয়া যাক কী কী পদক্ষেপ করছে রেল?

১) উচ্চ প্রযুক্তির নজরদারি-ব্যবস্থা। ওয়েবসাইটকে আরও আঁটোসাঁটো করে তোলা হচ্ছে, যাতে করে সহজেই কেউ এক সঙ্গে সব বা বেশির ভাগ টিকিট বুক করে ফেলতে না পারে।

২) নজর রাখা হচ্ছে টিকিট বুকিং-এ ব্যবহার হওয়া প্রত্যেকটি ইউজার আইডি-র ওপর।

৩) কোন আইডি থেকে ঠিক কতগুলি টিকিট কাটা হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে গণনা করা হচ্ছে সেটিও।

৪) এর সঙ্গে দেখা হচ্ছে টিকিটগুলির পেমেন্ট মোড কী অর্থাৎ কী ভাবে টিকিটের দাম দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে কত বার পেমেন্ট করা হচ্ছে।

৫) হিসাবের থেকে বেশি বার হয়ে গেলেই রেলের ওয়েবসাইটের সঙ্গে সব রকম সংযোগ ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে সেই অ্যাকাউন্টের।

এই ব্যবস্থা সম্পর্কে রেল আধকারিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ টিকিট বুকিং আর তৎকাল টিকিট বুকিং-এর ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য হয় কম করে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। সেখানে যাত্রীদের হাতে যখন তৎকাল টিকিট গিয়ে পৌঁছায় তখন তা অনেকটাই বেড়ে যায়। হয়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া।

কালীপুজো, দীপাবলি উপলক্ষে বাড়তি লোকাল ট্রেনের ঘোষণা পূর্ব রেলের

তাঁরা বলেছেন, প্রতিদিন সকাল ১০টায় এই ওয়েবসাইট খোলা হয়। কিন্তু দেখা যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। বড়ো প্রশ্ন তো এটাই। এত তাড়াতাড়ি সব টিকিট কী ভাবে বিক্রি হওয়া সম্ভব। এখানেই তো গ্যাঁড়াকল।

আসল ব্যাপারটা হল যাত্রীরা যখন নিজে অনলাইনে তৎকাল টিকিট কাটেন তখন শুরু থেকে মূল পাতা অর্থাৎ পেমেন্টের পেজ পর্যন্ত যেতে সময় লাগে প্রায় দু’ মিনিট। কারণ মাঝে থাকে বেশ কয়েকটা তথ্য দেওয়ার ব্যাপার। কিন্তু দালাল গোষ্ঠী তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি উন্নত প্রযুক্তির সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তার মাধ্যমে তারা সরাসরি মূল পেমেন্ট পেজ-এ গিয়ে পৌঁছোয়। ফলে সময় লাগে অনেক কম। তাই দালালচক্রের এই পথ বন্ধ করতে আরও উন্নত প্রযুক্তি দরকার।

এক জন আধিকারিক বলেন, রেল একটি নতুন ড্রাইভ এনেছে। বিশেষ বিশেষ সময়, উৎসবের দিনগুলির জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০০টিরও বেশি শহরে তদন্ত চালানো হচ্ছে ই-টিকিট বিক্রির চোরা কারবারিদের তল্লাসিতে।

উল্লেখ্য, দেশ  জুড়ে প্রায় ৫ কোটি গ্রাহক নিজেদের ইউজার আইডি তৈরি করেছেন। তার মধ্যে ১২৬৮টি আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে এই দালালচক্রের জন্য। এই আইডিগুলি সত্বর বন্ধ করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২ নভেম্বর পর্যন্ত ৮৯১ জন দালাল গ্রেফতার হয়েছে। পাঁচ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার টিকিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর প্রায় দ্বিগুণ মূল্যের টিকিট আটক করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। গত বছরে ১১৭৯ জন দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here