Sitaram Yechury

কলকাতা:  আগামী লোকসভা ভোটে কেন্দ্রের শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ-র বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ‘মহাজোট’ তৈরির প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু সেই মহাজোটের নাম কী?  কলকাতায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সেই মহাজোটের নাম প্রসঙ্গে বলেন,” সেই নাম যদি আমার জানাও থাকে, তবুও আমি এখন বলব না”।

তিনি বলেন, ভোটের আগেই সারা দেশ জুড়ে বিজেপি-বিরোধী মনোভাবের বহিপ্রকাশ ঘটছে। ফলে সাধারণ মানুষের জোট ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে সে ্অর্থে রাজনৈতিক দলগুলির জোট তৈরি হবে ভোটের পরই। তা হবে কেন্দ্রের বিকল্প ধর্মনিরপেক্ষ জোট। ওই জোটের একটা নাম অবশ্যই আছে। কিন্তু জোরালো ইঙ্গিত দিলেও সেই নাম তিনি প্রকাশ করেননি।

বামপন্থীরা মনে করেন, ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে হয়তো কোনো মহাজোট তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। ইয়েচুরি আগেও বলেছেন, অতীতে একাধিক বার কেন্দ্রে এমন কয়েকটি জোট সরকার দেশ চালিয়েছে, যারা সে অর্থে নির্বাচনের আগে জোট বদ্ধ হয়নি। যেমন ১৯৯৬ সালে ইউনাইটেড ফ্রন্ট বা ২০০৪ সালের ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ ্‌অ্যালায়েন্সের কোনো অস্তিত্ব ছিল না ভোটের আগে। ভোটের পরে বিকল্প সরকার গঠনের স্বার্থে ওই জোট গঠিত হয়েছিল। একই ভাবে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোট গঠন সম্ভব না হলেও ভোটের পর কেন্দ্রে বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একত্রিত হবে।

২০১৯ ভোটের পর যদি কেন্দ্রে বিকল্প সরকার গঠনের প্রয়োজনে সিপিএমের সমর্থন দরকার হয়? ইয়েচুরি স্পষ্টতই বলেন, ১৯৯৬ এবং ২০০৪-এ দু’টি সরকার গঠনেই সিপিএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। বাইরে থেকে সমর্থন এবং বিনিময়ে ন্যূনতম সাধারণ দাবিগুলিকে সামনে রেখে সিপিএম বরাবর কেন্দ্রের উপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

কিন্তু ওই মহাজোটে তো সিপিএমের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে দলীয় স্লোগান কী হবে? ইয়েচুরি বলেন, “দেশ থেকে মোদী সরকার হঠাও, ভারতকে বাঁচাও, মমতা সরকার হঠাও বাংলাকে বাঁচাও”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here