মোদীর কেনিয়া জয়, বক্তৃতায় হলিউড অভিনেত্রীর নাম

0

খবর অনলাইন: কল্পনা করুন বারাক ওবামা ভারত সফরে এসে এক নিঃশ্বাসে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া আর ফ্লিপকার্টের উদাহরণ টেনে আনছেন। কিংবা শাহরুখ খানের ডায়লগ গড় গড় করে বলে যাচ্ছেন ডেভিড ক্যামেরন। অবাক হচ্ছেন তো ?

না, অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিদেশ সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যা করছেন তাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ভারতে সফরে এসে এই কাণ্ড করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কখনও কি ভাবতে পেরেছিলেন বিদেশে গিয়ে তাঁর বক্তৃতায় নরেন্দ্র মোদী হলিউডের তারকা অভিনেত্রীর প্রসঙ্গ টেনে আনবেন ?

ক্ষমতায় এসেছেন দু’ বছরের কিছু বেশি হল। ইতিমধ্যেই ৪৫ বারের বেশি বিদেশ সফর করে ফেলেছেন। আর এত দিনে মোদী বুঝে গিয়েছেন কী ভাবে বিদেশি শ্রোতাদের মন জয় করতে হয়। বক্তৃতায় স্থানীয় বিষয় মিশিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। এই ব্যাপারটা মোদী একেবারে ফাইন আর্টের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। সোমবার কেনিয়া সফরে গিয়ে সেটাই করলেন।

মোদীর বক্তৃতার আসর বসেছিল নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেনীয় ছাত্রছাত্রীরা তাঁর শ্রোতা। মোদীর বক্তৃতা শুনতে তাঁরা উন্মুখ। কিছুটা চঞ্চলও। তাই গুঞ্জন চারিদিকে। মোদী শুরু করলেন – “এই প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর পরিবেশে এসে আমি খুব খুশি। তোমাদের কাছে, কেনিয়ার আবেগোদ্দীপ্ত পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমি ভারতের ৮০ কোটি যুব-জনতার সাদর বন্ধুত্ব নিয়ে এসেছি। আমি তোমাদের এই তরুণ, বুদ্ধিদীপ্ত, আগ্রহী মুখগুলো যত দেখছি, তত বুঝতে পারছি বিভিন্ন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতা, বিজ্ঞানী, সমাজকর্মীরা কেন এই বিদ্যাঙ্গনের দ্বারে বার বার  প্রবেশ করেছেন।”

তরুণ শ্রোতাদের এ ভাবেই গেঁথে ফেললেন নরেন্দ্র মোদী। বিস্ময়ের আরও বাকি ছিল। কত বার এই তরুণ রাষ্ট্রের প্রথম হওয়ার শিরোপা জুটেছে তার ফিরিস্তি দিয়ে একেবারে তাক লাগিয়ে দিলেন মোদী – “কেনিয়ার পরিবেশকর্মী ওয়াঙ্গারি মাথাই প্রথম আফ্রিকান নারী হিসাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বেরিয়েছেন। কেনীয় বংশোদ্ভূত লুপিতা নিয়ং প্রথম আফ্রিকান যিনি অস্কার জেতেন। বিশ্ব জুড়ে ম্যারাথন দৌড়ে কেনিয়ার দৌড়বীররা কত বার সোনা জিতেছেন তা বলতে পারার জন্য কোনও পুরস্কার নেই” – সুন্দরী হলিউড অভিনেত্রী লুপিতা নিয়ং-এর নাম বলার পর এত হর্ষধ্বনি উঠল যে প্রধানমন্ত্রীকে বেশ খানিক ক্ষণ থেমে থাকতে হল।

একই সঙ্গে মোদী যখন কেনীয় কোম্পানি ‘এম-পেসা’র সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন তখন উপস্থিত শ্রোতাদের চোখেমুখে একটা তৃপ্তির ছাপ। আর যা-ই হোক, অন্তত তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে ভারত একটা ক্ষমতাধর দেশ। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে যখন কেনিয়ার মোবাইল ফোনভিত্তিক মানি সার্ভিস কোম্পানির নাম শোনা গেল, তখন শ্রোতারা তো বিগলিত হবেনই।

এ ভাবেই কেনিয়ার যুবসমাজের মন জয় করে নিলেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন