adr report income bjp congress

ওয়েবডেস্ক: গত দু’মাস ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে একটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করলেন, তাতে বিস্মিত গোটা দেশ। বিজেপির প্রথম সারির প্রায় সমস্ত নেতা হত্যে দিয়ে পড়েছিলেন গুজরাতে। তবুও ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কোনো রকমে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছোতে পারলেও আহামরি কোনো ফলাফল করেনি কেন্দ্রের শাসক দল। তবুও এই বাংলার বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা ছিল নোটবন্দি-জিএসটির ‘লিটমাস টেস্ট’। আজ গুজরাত আবার পাঁচ বছরের জন্য গেরুয়া হল। এ বার গেরুয়া হবে সারা দেশ। কিন্তু রাজ্যের কংগ্রেস,সিপিএম নেতারা কোনো মতেই মানতে রাজি নন এই লিটমাস-তত্ত্ব।

সরকারি ভাবে ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করতে এখনও বাকি রয়েছে বেশ কয়েক ঘণ্টা। তার আগেই এগিয়ে থাকার ট্রেন্ড জানিয়ে দিয়েছে, বিজেপিই ফের গুজরাতে সরকার গড়ছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ রাজ্যের এক বিজেপি নেতা বলেন, সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ কংগ্রেস সামান্য এগিয়ে যায় বিজেপির থেকে। তখন দেখা যায় শেয়ার বাজারও সাড়ে ছশো পয়েন্ট পড়ে যায়। কিন্তু বিজেপি আবার যেই এগোতে শুরু করে তখন সেনসেক্স এক ধাক্কায় আড়াইশো পয়েন্ট উঠে যায়। এর থেকে বোঝা যায়, বিরোধীরা নোটবন্দি বা জিএসটি নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী মহলকে যে ভাবে কাছে টানার জন্য এগুলো নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছিল, তা পুরোপুরি ভ্রান্ত। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছেন বিজেপি সরকার সবার কথা ভেবেই এই অর্থনৈতিক সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার জেরেই এই ফলাফল।

যদিও বিজেপির এই যুক্তি মোটেই আমল দিতে চাইছেন না এ রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, খাতায়-কলমে এই ভোটে বিজেপি জিতলেও মানুষের জন্য, মানুষের কাছে কংগ্রেসই জিতেছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস এ বার গত বারের নির্বাচনের থেকে অনেক ভালো ফল করেছে। রাহুল জিএসটির প্রতিবাদে যে ভাবে গুজরাত নির্বাচনকে ব্যবহার করেছেন, তাতে সরকারও বিপাকে পড়ে গিয়েছিল। তারা জিএসটির হার সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। এই জয় মানুষেরই।

অন্য দিকে নয়াদিল্লিতে সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কেন্দ্রের সরকারে থাকা একটি রাজনৈতিক দল গুজরাত নির্বাচনে জেতার জন্য যে নীচতার পরিচয় দিয়েছে, তা মোটেই কাম্য নয়। এত ছোটোখাটো বিষয়গুলিকে টেনে আনা হয়েছে, যা না করলেও হত। তবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপির মুখোশের ভিতর থাকা মুখ আগেই চিনে নিয়েছে। বাংলায় ওদের ঠাঁই নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here