Facebook and e-mail account

ওয়েবডেস্ক: ই-মেল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অতি প্রাচীন, ইদানীং টুইটারেই বেশি আগ্রহ এ দেশের রাজনীতিবিদদের। কী প্রধানমন্ত্রী, কী মুখ্যমন্ত্রী মায় তাঁদের পার্ষদরাও নিয়ম করে টুইটার পেজটিকে সযত্নে ‘হ্যান্ডেল’ করেন। নিয়মিত সেখানে চলে নজরকাড়া মন্তব্য। এতে কর্মী-সমর্থক তো বটেই, খুব সহজেই  পৌঁছে যাওয়া যায় দূর-দূরান্তে। কিন্তু এ দেশের এক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ সব শুধু অপ্রয়োজনীয় নয়, অনর্থক বলে মনে হয়, কে বলুন তো তিনি?

তাঁর কাছে নেই কোনো মোবাইল সেট। অফিসের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করলেও নেই কোনো ই-মেল অ্যাকাউন্ট, আবার ফেসবুকের দেওয়ালের সঙ্গেও পরিচয় নেই তাঁর। এমনকি তাঁর ব্যাঙ্কে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ মাত্র ২,৪১০ টাকা।

ব্যস, এ বার নিশ্চয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে কে এই মুখ্যমন্ত্রী? ঠিক ধরেছেন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। আগামী মার্চ মাসেই শেষ হতে চলেছে তাঁর পাঁচ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ। স্বাভাবিক ভাবেই নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামায় তিনি এ সব কথা জানিয়েছেন স্পষ্ট ভাবেই।

ইতিমধ্যেই সারা ভারতের মধ্যে ‘দরিদ্রতম’ মুখ্যমন্ত্রীর রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন মানিকবাবু। তিনি হলফনামায় জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের ওই অর্থ বাদেও দৈনন্দিন খরচের জন্য তাঁর হাতে মজুত রয়েছে মাত্র ১,৫২০ টাকা। অন্য দিকে তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্কে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ১২,১৫,৭১৪.৭৮ টাকা। তাঁর স্ত্রী যে একজন সরকারি কর্মী সে কথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি তিনি। তাঁর হাতে রয়েছে ২০,১৪০ টাকা।

বরাবর দেহরক্ষী ব্যতীত প্রশাসনিক কার্যালয়ে যাতায়াতকারী মানিকবাবু রিকশা চড়তেই বেশি পছন্দ করেন। তবে বিজেপির দাবি, এ সব নেহাতই লোক দেখানো ব্যাপার। ত্রিপুরায় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা হিমন্তবিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন, ‘আমি যখন ত্রিপুরা যাই তখন মানিকবাবুকে রিকশার বদলে হেলিকপ্টার চড়তেই বেশি দেখি। জনগণের চোখের সামনে ঘটে চলেছে যা, তা আদতে ভড়ং।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here