ওয়েবডেস্ক: হিমাচল প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই সমস্ত নকশা বদলাতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি। সে রাজ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলেও হারতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রেমকুমার ধুমলকে। তাঁকে সামনে রেখেই হিমাচলে ভোটযুদ্ধে নেমেছিল দল। স্বাভাবিক ভাবেই ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নেতৃত্বের মাথায় বোঝার আকার নিয়েছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব। অবশেষে প্রায় সপ্তাহখানেকের চুলচেরা বিশ্লেষণের পর দলের তরফে ওই পদে নির্বাচন করা হয়েছে জয়রাম ঠাকুরকে। কে তিনি?

যাঁরা কম-বেশি হিমাচলপ্রদেশের রাজনীতির চর্চা করে থাকেন তাঁদের কাছে মোটেই অপরিচিত নন এই পাঁচবারের বিধায়ক। হিমাচলে গেরুয়া শিবিরের অভিজ্ঞ এই নেতার সব থেকে বড় পরিচিতি একজন ভদ্র ও নম্র স্বভাবের রাজনীতিক হিসাবেই। এমনকী বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছে তিনি এক জন ‘নিরীহ’ নেতা হিসাবেই পরিচিত। এ হেন এক ব্যক্তির পক্ষে রাজ্য রাজনীতির সর্বোচ্চ আসন যে কতটা মানান-সই, তা বলবে অদূর ভবিষ্যৎ।

এ বারের ভোটে ধুমল নিজের কেন্দ্র সুজানপুরে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। প্রাথমিক ভাবে স্থির হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা অথবা জয়রামের মধ্যে থেকে কোনো এক জনকে বেছে নেওয়া হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আসরে নিয়ে আসেন আরও বেশ কয়েকটি নাম। তবে ধুমলের একান্ত ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় এবং জয়রাম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হন।

ছোটো বেলাটা মোটেই সুখের ছিল না জয়রামের। বাবা ছিলেন সামান্য এক চাষি। তিন ভাই আর দুই বোনের শৈশব মোটেই ছিল না রংবাহারি। গ্রামেরই একটা ছোট্ট স্কুলে ম্যাট্রিক পাশ করে টানা দু’বছর বাড়িতে আর খেতের কাজ চালাতে হয়েছে অর্থের অভাবেই। তার পর কোনোক্রমে কলেজে ভর্তি। মান্ডির সেরাজ এলাকার ছোট্ট একটি গ্রাম তান্ডি থেকে উঠে আসা জয়রাম স্নাতক হওয়ার পর থেকেই বিজেপির ছাত্র শাখা এবিভিপি-র সক্রিয় সদস্য হিসাবে রাজনীতিতে যোগ দেন। তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নজর এড়ায় না সঙ্ঘ পরিবারের। যার ফলশ্রুতিতে তাঁর আজ মুখ্যমন্ত্রী পদে অভিষেক।১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেই ৩৮ বছরের জয়রাম বাজিমাত করেন। তারপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার কাহিনি।

নিজের জীবনের সেই ধোঁয়াটে দিনের কথা স্মরণে রেখেই রাজ্যের মানুষের দুর্দশা ঘোঁচানোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন জয়রাম, তেমনটাই আশা হিমাচলের।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন