nirav modi

ওয়েবডেস্ক: যে হিরে নিয়ে তাঁর কারবার, তারই মতো এত দিন সাফল্যের চমক ঘিরে রেখেছিল নীরব মোদীকে। এখন সাফল্যের জায়গাটা অপযশ নিলেও সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে রাখার পুরনো অভ্যাসটা কিন্তু মোদীকে ছেড়ে যায়নি।

জানা গিয়েছে, হীরক-ব্যবসায়ী পরিবারের এই তৃতীয় প্রজন্মের ছেলেটির জন্ম হয়েছিল ভারতেই। কিন্তু তিনি বড়ো হয়ে ওঠেন বেলজিয়াম সিটিতে। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও মোদী প্রথমে চেয়েছিলেন মিউজিক ডিরেক্টর হতে। গান তাঁর প্রাণ বললে কিছু মাত্র অত্যুক্তি হয় না। খবর বলে, গানের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি সুরঝঙ্কার অনুপুঙ্খ ভাবে শোনার জন্য দুনিয়ায় প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা মিউজিক সিস্টেম অনবরত কিনেই যেতেন মোদী। বড়ো হয়েও এই অভ্যাস তাঁকে ছাড়েনি।

যদিও মিউজিক ডিরেক্টর হওয়ার বাসনাটা ছাড়তেই হয়। ১৯ বছর বয়সে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভ্যানিয়া পরিচালিত হোয়ারথন স্কুল থেকে যখন ফেল করার জন্য নাম কাটা যায় তাঁর! তার পর যোগ দেন কাকার হিরের ব্যবসায়, গীতাঞ্জলি জেমস-এর কাজে।

তবে হিরের গয়নার ডিজাইনার হিসাবে বিখ্যাত হয়ে ওঠাটা স্রেফ নিয়তির খেলা। জানা যায়, ২০০৯ সালে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর জন্য নিজে একজোড়া হিরের কানের গয়না ডিজাইন করেছিলেন তিনি। সেটা প্রশংসা পাওয়ায় পরে ব্যাপারটাকে ব্যবসায় পরিণত করে তোলেন।

এর পরেই দেখতে দেখতে বিখ্যাত দুই নিলাম সংস্থায় মোদীর ডিজাইন করা হিরের গয়না বহুমূল্যে বিকোয়। ২০১০ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ক্রিস্টির নিলামে গোলকোন্ডা হিরের একটা নেকলেস, যার দাম উঠেছিল ৩.৫৬ মিলিয়ন ডলার। আর ২০১২ সালে ওই হংকংয়েই সদবির নিলামে রিভিয়ের হিরের নেকলেস ৫.১ মিলিয়ন ডলারে। পরিণামে ২০১৩ সালে ফোর্বস পত্রিকার সারা বিশ্ব খুঁজে তৈরি করা ধনীদের তালিকায় নাম উঠে যায় তাঁর।

আর এ সময় থেকেই বোধ হয় তাঁর ভাগ্যের আকাশে গ্রহের বক্রীগতি শুরু হয়। কেন না, ২০১৪ সালে ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইন্টেলিজেন্স হিরে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের জন্য তাঁকে তলব করে। আবার ওই এক-ই সালে সিবিআই এবং ইডির নজরদারিতেও পড়েন তিনি।

আর এখন তাঁকে নিয়ে কী হচ্ছে, সে তো সকলেরই জানা!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন