narendra modi, siddharamaiyah, karnataka

বেঙ্গালুরু: কেন্দ্রের শাসক বিজেপির কাছে কর্নাটক দখল করা এখন কার্যত সম্মানরক্ষার লড়াইয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। গুজরাতে ফিরে এলেও খুব একটা ভালো করতে পারেনি তারা, রাজস্থানে অবস্থাও যে বিশেষ ভালো নয়, সেটা উপনির্বাচনেই বোঝা গিয়েছে, ত্রিপুরাতেও প্রচারের ঝড় তুললেও রাজ্যটা দখল করা যে খুব চাপের সেটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছে তারা। এই অবস্থায় ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে যে করেই হোক কর্নাটক নিজেদের দখলে আনতে চায় মোদী সরকার। তাই হঠাৎ করে নিজেদের পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনে ফেলেছে।

নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই বিজেপি ঘোষণা করে দিয়েছিল এ বার তাদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা। একবার নয়, বার বার রাজ্যে প্রচারে গিয়েই ইয়েড্ডির প্রসঙ্গ তুলেছেন মোদী। কিন্তু নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত যেন ইয়েড্ডিতে ‘ভরসা’ পাচ্ছে না বিজেপি। তাই প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন চলে এসেছেন মোদী নিজেই। কর্নাটক নির্বাচন এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে ইয়েড্ডির নয় বরং তাঁর সঙ্গে মোদীর দ্বৈরথ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কিছু দিন আগেই দক্ষিণ কন্নড় জেলায় সভা করতে গিয়ে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, “ভোট দেওয়ার সময়ে শুধু পদ্ম চিহ্ন এবং মোদীর ছবি দেখবেন।” হঠাৎ করে নিজেদের পরিকল্পনায় এ রকম ভাবে পরিবর্তন কেন করল বিজেপি?

সম্ভবত তৃণমূল স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তা বলে তারা জানতে পেরেছে যে সিদ্দারামাইয়ার বিরুদ্ধে ইয়েড্ডিকে নির্বাচনী ‘ডুয়েলে’ নামালে রাজ্যে বিজেপির ফল আদৌ ভালো হবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দুর্নীতির ছায়া লেগে থাকাই কারণ হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

তাই মাসখানেক ধরে কর্নাটকের নির্বাচনী লড়াই এখন সিদ্দারামাইয়া বনাম মোদীতে পরিণত হয়েছে। প্রচারে ঝড় তুলছেন দু’জনেই। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নামিয়ে আনার ব্যাপারটা বেশ খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবেই নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপি ভালো করেই জানে এই মুহূর্তে তাদের সব থেকে বড়ো ‘ভোট ক্যাচার’ হলেন মোদী। সাম্প্রতিক যতগুলি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, সব ক’টাতেই তিনিই বিজেপির মুখ ছিলেন। সে ত্রিপুরায় মানিক সরকারের বিরুদ্ধে হোক বা উত্তরপ্রদেশে অখিলেশের বিরুদ্ধে। বেশির ভাগ নির্বাচনেই মোদীকে দিয়েই বাজিমাত করেছে শাসকদল। তবে এর মধ্যে দু’টো বড়ো ব্যাতিক্রম রয়েছে, ২০১৫-এর দিল্লি এবং বিহার নির্বাচন।

দিল্লি এবং বিহারের নির্বাচনের চরিত্রে বেশ কিছু মিল ছিল-

  • দু’টো নির্বাচনের ক্ষেত্রেই মোদীর বিরুদ্ধে যিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরা আঞ্চলিক রাজনীতিতে খুব বড়ো নাম (নীতীশ এবং কেজরিওয়াল)।
  • বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল অকংগ্রেসি দল।
  • বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ছিল না।
  • প্রচারের শেষে নির্বাচনটি মোটামুটি দ্বিদলীয় লড়াই হয়ে উঠেছিল (দিল্লির ক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে আপ এবং বিহারের ক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে জেডিইউ)।

কেজরি এবং নীতীশ দু’জনেই মানুষদের বোঝাতে পেরেছিলেন যে এই নির্বাচন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য হচ্ছে, যিনি স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের নির্বাচন এটা হচ্ছে না।

বিহার-দিল্লি নির্বাচনের সঙ্গে কর্নাটক নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য হল এখানে সিদ্দারামাইয়া একজন কংগ্রেস নেতা। অন্য দিকে দেবগৌড়ার জেডিএসের সঙ্গে মায়াবতীর বিএসপির জোট হওয়ায়, এই নির্বাচন অনেকটাই তিন দলীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু নির্বাচনের টোনটা একই। বিজেপি যখন দেশীয় জাতীয়তাবাদের জিগির তুলছে তখন সিদ্দারামাইয়া জিগির তুলছেন কন্নড় জাতীয়তাবাদের।

সুতরাং মোদী বনাম সিদ্দারামাইয়ার দ্বৈরথে বিজয়ী কে হবেন সেটা আপাতত সময়েই বলবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন