chai pe charcha

ওয়েবডেস্ক: কৈলাস কিষান মানকরকে মনে আছে?

কৈলাসকে মনে করতে হলে প্রথমেই ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘চায়ে পে চর্চা’র কথা স্মরণ করতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে সামনে বসিয়ে নতুন নতুন স্বপ্নের দিশা দেখাচ্ছিলেন মোদী। তেমনই একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন ২৫ বছরের তরতাজা এই যুবক। মহারাষ্ট্রের অর্নি তহশিলের অন্তর্গত দাভাদি গ্রামের বাসিন্দা কৈলাস পেশায় অতি সাধারণ এক চাষি, বাবার মৃত্যুর পর নিজেই দেখাশোনা করতেন সমস্ত কাজ। এ হেন কৈলাসের গ্রাম দেশময় জনপ্রিয়তা পেয়ে গিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর ভোট প্রচারের সুবাদে। কিন্তু তিন বছর আগের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদী আর বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত মোদীর কথা এবং কাজের মিল ধরা পড়েনি কৈলাসের জীবনে। তাই হয়তো সে দিনের সেই জীবন এখন দেওয়ালে টাঙানো ছবি ছাড়া অন্য কিছু নয়। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই নিভে গেল অনেক স্বপ্ন দেখা এক জোড়া চোখ। গত সোমবার কীটনাশক গলায় ঢেলে মৃত্যুর কোলে চির আশ্রয় নিয়েছেন কৈলাস। এমন কী ঘটেছিল কৈলাশের জীবনে?

বীজ কেনা থেকে শুরু করে চাষের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য জেলা সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। চড়া সুদে আরও এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত যোগাযোগ মারফত। শুধু যে চাষের কাজের জন্যই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার তা নয়, বড়ো দাদা হতাশাগ্রস্ত হয়ে অসুস্থ। পুরো পরিবারের দায়িত্বভার ছিল তাঁর উপরেই। আসছে গ্রীষ্মে ছোটো বোন সোনুর বিয়ে। সব মিলিয়ে বিশাল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন। ঋণ নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কী-ই বা করার আছে? ও দিকে মাঠে যে ফসল বোনা হয়েছিল তা-ও ‘পিঙ্ক বলওয়ার্ম’-এর প্রকোপে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে সব বললে তো আর পাওনাদার দয়া বর্ষণ করবেন না। বাড়তে লাগল ইএমআইয়ের (ঋণ মেটানোর মাসিক কিস্তি) চাপ।

২০১৪ সালের ২০ মার্চ সে দিনের ভাবী প্রধানমন্ত্রী দাভাদি গিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ‘কিষাণ মিত্র’ নামে সংস্থার মাধ্যমে চাষির হাতে বীজ এবং পর্যাপ্ত অর্থ তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি তিনি যদি সত্যিই রক্ষা করে থাকেন, তা হলে কেন নিভে যেতে হলে কৈলাসকে, এমনটাই প্রশ্ন গ্রামবাসীদের।

‘চায়ে পে চর্চা’র দর্শকরা কি নীরব থাকবেন?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here