করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় জোড়া মাস্ক কেন জরুরি

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়ানোর জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া অবশ্যই জরুরি।

যখন কেউ একটা মাস্কের উপর আরেকটা মাস্ক পরেন, সেটাকেই ডবল মাস্কিং বলা হয়। বাইরের দিকে থাকা মাস্কটি আলগা হলেও ভিতরের মাস্কটি আঁটসাঁট ভাবেই মুখের উপর লেগে থাকে। যেহেতু শ্বাস-প্রশ্বাস বা থুতুর সঙ্গে করোনা সংক্রমণ ঘটে, তাই দু’টো আবরণ থাকলে তার সম্ভাবনাও অনেকটাই হ্রাস পায়। পাশের ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি থেকেও তখন সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়।

Loading videos...

কেন জরুরি ডবল মাস্কিং?

বর্তমানে দেশজুড়ে করোনার ডবল মিউট্যান্ট এমনকী ট্রিপল মিউট্যান্ট প্রজাতিও ছড়াচ্ছে দ্রুত হারে। কিন্তু এর মধ্যেও সাধারণ মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বেরোতে হচ্ছে। অটো, টোটো, বাস, ট্রেনের মতো গণপরিবহণেও যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে করোনা ছোঁয়া থেকে বাঁচাতে জোড়া মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনা দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে এখন। শেষ কয়েক দিন ধরে সারা দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে তিন লক্ষের উপরে। ফলে রাস্তায় বেরনোর সময় বা কোনো ভিড় জায়গায় যেতে হলে জোড়া মাস্ক ব্যবহার করাই ভালো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে নাক অথবা মুখ দিয়ে কোনো ভাইরাসের কণা প্রবেশে বাধা আরও জোরালো হবে।

জোড়া মাস্ক কী ভাবে পরবেন?

জোড়া মাস্ক পরার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিতরের মাস্কটা হতে হবে একটু আঁটসাঁট। আর উপরেরটা একটু ঢিলে। এ ক্ষেত্রে ভিতরের মাস্কটা হতে হবে সার্জিক্যাল মাস্ক। এবং বাইরেরটা কাপড়ের তৈরি। অর্থাৎ, আগে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে নিয়ে তার উপরে কাপড়ের মাস্ক পরতে হবে।

তবে দু’টো মাস্ক-ই যদি কাপড়ের তৈরি হয়, তাতেও ক্ষতি নেই। বাজারে একাধিক স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া যায়। কিন্তু স্তর একাধিক হলেও সার্জিক্যাল মাস্কের উপর একটা কাপড়ের মাস্ক পরে নেওয়া ভালো বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাইরের মাস্ক আপনার ভিতরের মাস্ককে একেবারে আপনার মুখের কাছে ধরে রাখছে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

কী বলছে গবেষণা?

সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, জোড়া মাস্ক পরলে করোনাভাইরাস আটকানোর ক্ষমতাও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ভাইরাস কণা নাক ও মুখের মধ্যে প্রবেশ করার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।

জামা ইন্টারনাল মেডিসিন প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ঢিলেঢালা মাস্ক পরলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা কার্যত পাওয়া যায় না। কিন্তু মুখ-নাকে চেপে বসে থাকা মাস্ক পরলে ভাইরাস কণা সহজে প্রবেশ করতে পারে না। এমনিতে সংক্রমণ ও প্রসারের মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব ও উপকারিতা প্রমাণিত। তার উপর জোড়া মাস্ক পরলেও দ্বিগুণ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

আপনার ব্যবহারের মাস্কটি সুরক্ষিত তো?

ফেস মাস্ক নিয়ে বারে বারেই নানান মতনৈক্য উঠে এসেছে। কখনও বলা হয়েছে, কাপড়ের মাস্কই যথেষ্ট এই ভাইরাস আটকানোর জন্য, কখনও বা সার্জিক্যাল মাস্কই যথেষ্ট বলা হয়েছে। আবার কখনও বা এন৯৫ মাস্কেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। খবরঅনলাইনের এই প্রতিবেদনটি পড়ে যাচাই করে নিন: কোন মাস্ক পরা উচিত আর কোনটা নয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.