rajasthan elections
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: ২০০৩-এ ৩৭, ২০০৮-এ ৭১ এবং ২০১৩-এ ৫৮। ২৩০ আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় গত তিনটে নির্বাচনে মাত্র এই’কটা আসনই জিতেছিল কংগ্রেস। অন্যদিকে এই নির্বাচনগুলোয় বিজেপি জিতেছিল যথাক্রমে ১৭৩, ১৪৩ এবং ১৬৫টি আসন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ বছর পরে রাজ্যের বিজেপি সরকারকে হঠানোর এটিই সেরা সুযোগ কংগ্রেসের কাছে।

১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে এমনিতে একটা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া রয়েছে শিবরাজ সরকারের বিরুদ্ধে। সেই হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস ফায়দা তুলতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে বেশকিছু জনমত সমীক্ষা। এর ফলে রাজ্যে আগের থেকে অনেকটা বেশি উজ্জীবিত হয়েছে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন তুঙ্গে বিবাদ, লোকসভা ভোটের আগেই এনডিএ ছেড়ে দিতে পারে এই শরিক

কংগ্রেসও বিলক্ষণ যানে, এই নির্বাচনে আবার ভরাডুবি মানে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের ভবিষ্যতে নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন উঠে যাওয়া। তাই রাজ্যটি দখল করার জন্য অনেক বেশি জোর দিয়ে ঝাঁপিয়েছে ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি।’ গত তিনটে নির্বাচনের থেকে এ বার কংগ্রেসের উপস্থিতি অনেকটাই বেশি।

কিছুদিন আগে যে ইস্তেহার কংগ্রেস প্রকাশ করেছে, তাতে সমাজের সব সমস্যার কথাই কার্যত তুলে ধরা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রের দিকে বেশি করে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বেকারত্ব সমস্যার কথা তুলে ধরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ক্ষমতায় এলে যুব সমাজকে চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা করা হবে। সেই সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা তুষ্ট হতে পারে, এমন অনেক প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন টিকিট না পেয়ে কেঁদে ভাসানোর পরেই বিজেপি নেতাকে ভোটে প্রার্থী করল কংগ্রেস

অন্যদিকে এ রাজ্যে দলের মুখও প্রচুর। অন্য রাজ্যে কংগ্রেসের প্রধান মুখ নিয়ে সমস্যা হয়। কিন্তু এ রাজ্যে তেমন কোনো সমস্যাই নেই। গোটা রাজ্যেই ভালো প্রভাব রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহের। মহাকুশল অঞ্চলে কমল নাথ এবং গ্বালিয়র-চম্বল অঞ্চলে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে বিন্ধ অঞ্চলে অজয় সিংহ, মধ্যাঞ্চলে সুরেশ পাচউরি, নির্মর অঞ্চলে অজয় যাদব এবং আদিবাসী অঞ্চলে কান্টিলা ভুলিয়া রয়েছেন। এর ফলে সমস্যাও যে নেই তা নয়। দলের নেতাদের মধ্যে অন্তর্কলহ রয়েছে। তবুও সেই সবকিছুকে আড়ালে রেখেই কৌশলগত ভাবে এগোচ্ছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির অবস্থা আরও করুণ বলে মত বিশ্লেষকদের। রাজ্যের অনেক মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে বিভিন্ন দুর্নীতিতে। একজন মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগেও। আবার টিকিট না পাওয়ায় দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন অন্তত তিনজন মন্ত্রী, যাঁদের মধ্যে সরতাজ সিংহ, এ বার কংগ্রেসের টিকিটে প্রার্থী হয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন রাজস্থানের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, তেলঙ্গানাও পকেটে পুরবে কংগ্রেস?

এ দিকে চম্বল অঞ্চলে বিজেপিকে চাপে ফেলে তৈরি হয়েছে সামান্য পিছড়া অল্পসংখ্যক কল্যাণ পার্টি (এসপিএকেপি)। অসংরক্ষিতদের জন্য কোটার আন্দোলন শুরু করেছে তারা। অন্যদিকের টিকিটের ব্যাপারে খুব কৌশলগত চাল চেলেছে কংগ্রেস। সামাজিক এবং আঞ্চলিক হিসেবনিকেশ করেই প্রার্থী বাছাই হয়েছে।

ভোটের আগে যদিও বসপার সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারেনি কংগ্রেস, তবুও এ বার রাজ্য দখল করার ব্যাপারে কংগ্রেস অনেকটাই এগিয়ে, এমনই মত বিশ্লেষকদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here