ওয়েবডেস্ক: ২০০৫ সালের কথা। বিহারের বিধানসভা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না কেউ। বিজেপি ও জেডি (ইউ) সেবার জোট করে ভোটে লড়ে পেয়েছিল ৯২টি আসন। অন্য দিকে লালুর দল আরজেডি পেয়েছিল ৭৫টি আসন আর রামবিলাস পাসোয়ানের এলজেপি পায় ২৯টি আসন। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউ। কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠ এনডিএ (বিজেপি-জেডিইউ) জোটকে সরকার গড়তে ডাকেননি রাজ্যপাল বুটা সিং। বদলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেন। কেন্দ্রে তখন কংগ্রেসের ইউপিএ সরকার। বুটা সিং-এর মত ছিল, যে হেতু ওই জোটের সরকার গড়ার মতো আসন নেই, তাই তাঁরা অন্য দুই দল থেকে বিধায়ক কিনতে পারে।

রাষ্ট্রপতি শাসনের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে যায় বিজেপি। ২০০৬ সালের মে আসে সুপ্রিম কোর্ট ওই রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। তাঁরা বলে, ভোটের পর যদি কোনো জনপ্রতিনিধি বা কোনো দল, অন্য কোনো দল বা জোটকে সমর্থন করতে চান, তাতে রাজ্যপালের বাধা দেওয়া উচিত নয়। এর মধ্যে কোনো অন্যায় নেই।

সেই রায়কে পাথেয় করেই এ বার কংগ্রেস বলছে কর্নাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই বালা যদি কংগ্রেস-জেডিএস জোটকে সরকার গড়তে না ডাকেন, তা হলে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। কারণ সে বার তো তাও এনডিএ-র কাছে সরকার গড়ার মতো সংখ্যা ছিল না, এ বার তাঁদের হাতে সেটা আছে। কং-জেডিএস-এর মোট বিধায়ক ১১৬।

শুধু তা-ই নয়, গত বছর গোয়া, মেঘালয় ও মণিপুরে তিনটি বিধানসভা ভোটেই কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়া সত্ত্বেও ভোটের পর তাঁদের দল ভাঙিয়ে নেয় বিজেপি। রাজ্যপালেরাও বিজেপির সেই ভোট পরবর্তী জোটকেই সরকার গড়তে ডাকেন।

কিন্তু প্রবীণ রাজনীতিক সব জেনেও, বৃহস্পতিবার ইয়েদুরিয়াপ্পাকে শপথ নিতে বলেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য ১৫ দিন সময়ও দিয়েছেন। কিন্তু কেন?

আরও পড়ুন: কর্নাটকে কী পথ খোলা রয়েছে রাজ্যপালের কাছে?

কারণটা লুকিয়ে আছে বাজুভাইয়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে। ৭৯ বছরের এই প্রবীণ কৈশোর থেকেই আরএসএস-এর সদস্য। ১৯৭১ সালে জনসঙ্ঘ তৈরি হওয়ার পর তিনি তাতে যোগ দেন। ১৯৮৪ সাল থেকে গুজরাতের বিধায়ক। অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৮ বার বাজেট পেশ করে গুজরাতে রেকর্ড করেছেন। এ ছাড়াও সামলেছেন শুল্ক, শক্তি ও পরিবহণ মন্ত্রক, গুজরাত বিজেপির দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১২ থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাত বিধানসভার অধ্যক্ষ ছিলেন। মোদীর অত্যন্ত কাছের লোক তিনি। সারা জীবন যে দলটি তিনি করে এসেছেন, তাঁরা এখন কেন্দ্রের ক্ষমতায়।

এ রকম পরিস্থিতিতে যতই আরএসএস-বিজেপি দুর্নীতির বিরোধিতার কথা বলুক, বাজুভাইয়ের পক্ষে বিজেপিকে ঘোড়া কেনাবেচার জন্য সময় না দিয়ে উপায় নেই। রাজনীতির পেশায় প্রবীণ হওয়ায় তিনি জানেন এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে ডাকায় তাঁর প্রচুর দুর্নাম হবে। কিন্তু প্রিয় দলের জন্য কিছুটা সময় নষ্ট না করে তাঁর উপায় নেই। যদি এই সময়টা বিজেপির কর্পোরেট এজেন্টরা কাজে লাগাতে পারে।

দিল্লি থেকে তাঁর বসদের সে রকমই নির্দেশ যে!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন