অবতরণে হতাশ করলেও, কেন ভারতের ‘মিশন মুন’কে কোনো ভাবেই ব্যর্থ বলা যাবে না?

0

বেঙ্গালুরু: চাঁদে অবতরণের প্রথম প্রয়াসে হয়তো ব্যর্থ হয়েছে ভারত। হতাশা গ্রাস করেছে ইসরোর বিজ্ঞানীদের। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এই চন্দ্রযান চাঁদে পাঠানো হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য কিন্তু সফল হয়েছে। চন্দ্রযানের অর্বাইটার এখনও তার কাজ করে চলেছে আর সে কিছুটা দূর থেকে চাঁদকে পর্যবেক্ষণ করবে।

এই প্রসঙ্গেই সংবাদসংস্থা এএনআইকে ইসরোর এক আধিকারিক বলেন, “আমাদের মিশনের পাঁচ শতাংশ ব্যর্থ হয়েছে। হতাশ করেছে ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান। বাকি ৯৫ শতাংশ, অর্থাৎ চন্দ্রযান ২-এর অর্বাইটার চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।”

এই অর্বাইটার চাঁদের অনেক ছবি তুলে ইসরোকে পাঠাতে পারে। এমনকি ল্যান্ডার বিক্রমের ছবি তুলেও তার বর্তমান অবস্থানের ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের অবগত করতে পারে সে। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রজ্ঞান রোভারের আয়ু মাত্র ১৪ দিনের।

উল্লেখ্য, শুক্রবার গভীর রাতে চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ২.১ কিমি দূর থেকে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন যখন এ কথা জানান তখন কন্ট্রোল রুমে সকলের মুখেই বেদনার চিহ্ন। সবাই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার অবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকলকে উজ্জীবিত করেন। বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে সবাইকে সাহসী হতে বলেন।

আরও পড়ুন শেষ ছ’দশকে চন্দ্রাভিযানের সংখ্যা ১০৯টি, সফল হয়েছে কতগুলি?

তখন রাত ২.১৯। বেঙ্গালুরুর ইসরো কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে সবাই চিন্তিত মুখে বসে। প্রায় আধ ঘণ্টা হতে চলল, চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রম থেকে কোনো সিগন্যাল আসছে না। সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। প্রায় আধ ঘণ্টা আগে বিক্রম চাঁদের মাটিতে পা রাখার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। সব কিছু ঠিকঠাক চললে রাত ১.৫৩ নাগাদ নেমে যাওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত ইসরোর চেয়ারম্যান জানালেন, ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সব ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখছেন।

আরও পড়ুন চাঁদের মাটি থেকে ২.১ কিমি দূরে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন, জানাল ইসরো

উল্লেখ্য, বিজ্ঞানীদের যাবতীয় নজর ছিল অবতরণের অন্তিম ১৫ মিনিটের দিকে। যে সময়টাকে ইসরোর চেয়ারম্যান ‘সব চেয়ে দুশ্চিন্তার মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই ‘দুশ্চিন্তার মুহূর্ত’ শুরু হয় রাত ১টা ৩৮ মিনিটে। পর পর সিগন্যাল আসছিল বিক্রম থেকে। অবতরণের একেবারে চূড়ান্ত মুহূর্তে গিয়ে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। গত ২২ জুলাই শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ হয়েছিল চন্দ্রযান ২-এর। এর পর বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে চাঁদের মাটির একেবারে কাছে পৌঁছেও শেষরক্ষা হল না কেন? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকলের মনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here