মুম্বই: রাজনৈতিক নেতাদের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য জনগণের টাকা খরচ করার কোনো প্রয়োজন নেই রাজ্য সরকারের। কারণ তাঁদের দিকে নজর দেওয়ার যথেষ্ট ক্ষমতা তাঁদের দলগুলির আছে। এই মন্তব্য বম্বে হাইকোর্টের।

“আইনসভার প্রাক্তন সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য করদাতাদের টাকা কেন খরচ করা হচ্ছে ?” প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর এবং বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নিকে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মন্তব্য, “দেখেশুনে মনে হচ্ছে, কিছু বাছাই করা লোককে আপনারা পুলিশি নিরাপত্তা দিচ্ছেন কারণ তাঁরা কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত।”

মহারাষ্ট্র জুড়ে যে সব রাজনৈতিক নেতা পুলিশি নিরাপত্তা পান, তার একটা তালিকা উল্লেখ করে আদালত সরকারি উকিল অভিনন্দন বাগ্যানিকে বলে, “তাঁরা নিজেরা বা তাঁদের দল তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুক। তাঁদের বোঝা সরকারি কোষাগারের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।”

অশোক উদ্যাবর ও সুন্নি পুনামিয়ার দায়ের করা এক জনস্বার্থের মামলার শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ এই মন্তব্য করে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পুলিশি নিরাপত্তা দিতে গিয়ে সরকারের যে বিপুল দেনা হচ্ছে, জনস্বার্থের ওই মামলায় তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

রাজ্য সরকার যে তালিকা আদালতে পেশ করেছে, তা থেকে জানা যায়, মুম্বইয়ের ২৪২ জন সহ গোটা রাজ্যে ১০৩৪ জনকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এক এক জনের জন্য গড়ে ৪ জন করে পুলিশকর্মী বহাল করা হয়। এই তালিকায় এমন ৪৮২ জন আছেন যাঁরা কোনো সাংবিধানিক পদাধিকারী নন। যাঁরা সরকারকে টাকা দিতে সক্ষম, তাঁদের জন্য বিনা খরচে এই পরিষেবা দেওয়া হয় বলে ডিভিশন ক্ষোভ প্রকাশ করে। বেঞ্চ বলে, “আপনাদের তালিকায় অনেকে আছেন যাঁরা খরচ দেন, আবার অনেকে আছেন যাঁরা দেন না। এর থেকেই বোঝা যায়, এ ব্যাপারে কোনো বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করা হয় না।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here