Sadhvi Pragya
প্রতীকী ছবি

ভোপাল: মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে প্রকৃত দেশভক্ত আখ্যা দিয়ে প্রবল বিতর্কে জড়িয়েছেন ভোপালের বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতেই নিজের মন্তব্য থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে টুইট করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে টুইট করে প্রজ্ঞা বলেন, “নাথুরাম গডসেকে নিয়ে আমার মন্তব্যের জন্য দেশের মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি ভুল কথা বলেছি। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি আমার অগাধ সম্মান এবং শ্রদ্ধা রয়েছে।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নাথুরাম গডসেকে নিয়ে মন্তব্যের পর কেন হঠাৎ করে ক্ষমা চেয়ে ফেললেন সাধ্বী প্রজ্ঞা। সূত্রের খবর, নাথুরাম গডসেকে নিয়ে মন্তব্যের পর বিরোধীদের তির যেমন ছিল, তেমনই তার ওপরে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্বও।

নাথুরাম গডসেকে দেশভক্ত আখ্যা দেওয়া আখেরে মহাত্মা গান্ধীকে অপমান করা। এ হেন মন্তব্য যে মানুষ ভালো ভাবে নেবে না, সেটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। তাই ক্ষমা চাওয়ার জন্য এক প্রকার বাধ্য করা হয়ে সাধ্বীকে। তিনি যে নেতৃত্বের চাপেই ক্ষমা চেয়েছেন, সেটাও আকারে ইঙ্গিতে স্বীকার করে নিয়েছেন প্রজ্ঞা।

আরও পড়ুন দমদমে বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে ভাঙচুরের নেপথ্যে কারা?

তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগেও বিতর্কিত মন্তব্যে জড়িয়েছেন সাধ্বী। ২৬/১১-এ অজমল কাসবদের গুলিতে নিহত হওয়া হেমন্ত করকরেকে নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সাধ্বীর দাবি ছিল, তাঁর অভিশাপের জন্যই মৃত্যু হয়েছে করকরের। এই মন্তব্যও ভালো ভাবে নেয়নি বিজেপি নেতৃত্ব।

বিজেপির এখন সমস্যা এই সাধ্বী প্রজ্ঞাই। এমনিতে ভোপাল লোকসভা আসনটি বিজেপি অন্যতম নিশ্চিত আসনগুলির একটা। ১৯৮৯ থেকে এই আসনে জিতছেন বিজেপি প্রার্থীরা। কিন্তু গত মাস খানেকে সাধ্বী যে ধরনের মন্তব্য করছেন, তাতে জাতীয়তাবাদের জিগির বুমেরাং হয়ে যাবে কি না, সেটাই ভাবাচ্ছে নেতৃত্বকে। আর তাই নাথুরাম গডসেকে নিয়ে হঠাৎ করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন প্রজ্ঞা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here