assam nrc
ছবি : সৌজন্যে ডিডি নিউজ

ওয়েবডেস্ক : অসম জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ-এর (এনআরসি) খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিজেপির একাধিক নেতা বলতে শুরু করেছেন এ বার দেশ জুড়েই নাগরিক পঞ্জিকরণের কাজ শুরু হবে। লোকসভা ভোটের বছরখানেক আগে থেকে কেন বিজেপি নাগরিকপঞ্জি নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করল? সেই প্রশ্নটাই এখন আলোচ্য বিষয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধীদের একাংশ বলছেন, ‘ভোটে ফায়দা’ তুলতে বিভাজনের রাজনীতির তাস খেলেছে বিজেপি। আর তাই এনআরসি নিয়ে এত হুড়োহুড়ি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, অসম নাগরিকপঞ্জিকে একটি পাইলট প্রোজেক্ট হিসাবে দেখা হচ্ছে। এর সাফল্য-ব্যর্থতা খতিয়ে দেখে পরবর্তীকালে বিহার, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্রে নাগরিকপঞ্জি তৈরির কাজে হাত দিতে পারে কেন্দ্র।

মোদী জামানায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য অন্য একটি যুক্তিকেও উসকে দিচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা কমেছে।  ২০১৩ সালে ইউপিএ জামানার শেষ বছরে ৫২৪৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার পরের বছর অর্থাৎ মোদী সরকার যখন ক্ষমতায় আসে ২০১৪ সালে ৯৮৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। তার পর যথাক্রমে ২০১৫ সালে ৪৭৪ জন, ২০১৬ সালে ৩০৮ জন এবং ২০১৭ সালে ৫১ জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তথ্যই বলে দিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা উত্তরোত্তর কমেছে মোদী জামানায়।

আরও পড়ুন : মমতার ‘গৃহযুদ্ধ’ পুঁথিগত মান্যতা না পেলেও নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিজেপির উৎফুল্ল হওয়ার কারণ নেই

বেআইনি অনুপ্রবেশ রোখা বিজেপির অন্যতম অ্যাজেন্ডা হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য কিন্তু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সে কাজে আদৌ কতটা গুরুত্ব দিয়েছে মোদী সরকার।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টির সুপরিকল্পিত সমাধানের পথে না গিয়ে ভোট স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলি অনুপ্রবেশ সমস্যাকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসাবে ব্যবহার করেছে।

বুধবার অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি টুইট করে মন্তব্য করেছেন, ২০০৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় বলেছিলেন বেআইনি অনুপ্রবেশ ‘বির্পযয়ের’ জায়গায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা রজত শেঠি এনডিটিভিকে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে যখন বামেরা ক্ষমতায় ছিল তখন বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করেছে। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করছেন।

একই ভাবে বিজেপির ক্ষেত্রেও প্রথম থেকে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ না নিয়ে লোকসভা ভোটের কাছে এসে এনআরসি নিয়ে হুড়োহুড়ির পিছনেও রয়েছে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন