ভোপাল: ফি বছরই কোনো না কোনো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন সংগঠিত হয়। এর ফলে এক দিকে যেমন খরচা হয়, তেমনই ভোটের কাজে শিক্ষকশিক্ষিকাদের লাগানোর জন্য প্রভাব পড়ে পড়াশোনার ওপরে। এটা আটকানোর জন্যই এক সঙ্গে বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন চেয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এত দিন পরিকাঠামোর অভাবে সক্ষম ছিল না নির্বাচন কমিশন।

তবে বুধবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল আগামী বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যেই একসঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুত হয়ে উঠবে তারা। নির্বাচন করার দায়িত্ব যে কেন্দ্রের হাতে সে কথাও বলে কমিশন।

ভোপালে একটি অনুষ্ঠানে নির্বাচনী কমিশনার ওপি রাওয়াত বলেন, কেন্দ্র নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিল এক সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করতে কী কী প্রয়োজন। জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায় ভিভিপ্যাট যন্ত্র এবং ইভিএম কেনার অর্থ পেলেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। এর পরেই কেন্দ্রের তরফ থেকে ভিভিপ্যাট যন্ত্রের জন্য ৩,৪০০ কোটি এবং ইভিএমের জন্য ১২,০০০ কোটি টাকা পায় কমিশন।

অন্তত ৪০ লক্ষ ভিভিপ্যাট যন্ত্রের অর্ডার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই যন্ত্রগুলি কমিশনের হাতে আসবে বলা জানিয়েছেন রাওয়াত। তাঁর কথায়, “২০১৮-এর মধ্যে এক সঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন আয়জন করার জন্য কমিশন পরিকাঠামোগত ভাবে প্রস্তুত। এ বার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।”

কিছু দিন আগেই ‘জাতীয় স্বার্থ’-এর জন্য ২০২৪ থেকে এক সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছিল নীতি আয়োগ। সেই সঙ্গে বলেছিল এই উদ্দেশ্য সফল করতে গেলে সবার সহযোগিতা এবং সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্য প্রয়োজন।

এই ব্যাপারে ঐক্যমত্য পোষণ করতে পারেনি অধিকাংশ বিরোধী দলই। বিরোধী এবং আঞ্চলিক দলগুলির যুক্তি লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন এক সঙ্গে হলে বিজেপি সেখানে প্রভাব খাটাবে। এক সঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন করা আদৌ যায় কি না, এখন সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here