কোভিড-১৯: মুম্বইয়ের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে আগামী পাঁচ দিন

বৃহস্পতিবার সকালে ১২ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮। প্রতীকী ছবি

মুম্বই: দেশের মধ্যে কোভিড-১৯ (Covid-19) আক্রান্তের সংখ্যায় অন্যান্য সমস্ত শহরকে পিছনে ফেলেছে বাণিজ্যনগরী মুম্বই (Mumbai)। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে আশঙ্কা এখন একটাই- মুম্বই কি ধীরে ধীরে নিউইয়র্ক সিটি (NYC) হয়ে উঠতে চলেছে?

মহারাষ্ট্র সরকারের প্রশাসনিক কর্তা, স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক এবং বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (BMC) সংশ্লিষ্ট কর্তারা জানিয়েছেন, গত দু’দিন ধরে প্রতিদিন একশোর বেশি করোনাভাইরাস (Coronavirus) আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। সংক্রমণ যে চূড়োয় পৌঁছেছে, এটা তারই ইঙ্গিত। তবে তাঁরা আশাপ্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই সংখ্যাটা ক্রমশ কমতে পারে। যদিও একই সঙ্গে এখানে একটা উদ্বেগজনক সতর্কতাবার্তাও রয়েছে।

সেই উদ্বেগ থেকেই প্রশ্ন উঠছে, আগামী দিনে কি মুম্বইয়ের পরিণতি নিউইয়র্কের মতোই হয়ে যেতে পারে? এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যান এবং প্রবণতা থেকে আমরা ধরে নিতে পারি, এখানে আগামী পাঁচ দিনে প্রতিদিন ২০০-৩০০ জন আক্রান্ত হতে পারেন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এটার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু আশা করছি এই পাঁচ-ছ’দিনের সময়কালের পরে আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাবে। তবে এই তীব্রতা যদি পরবর্তী ১০ দিন অব্যাহত থাকে, তবে আমরা ইতালি বা নিউ ইয়র্কের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি”।

সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মুম্বইয়ে। কিন্তু গত দু’দিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে দেখা গিয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন আক্রান্ত হচ্ছিলেন, সেখানে সেই সংখ্যাই একশোয় ঠেকে গিয়েছিল। এমনকী বৃহস্পতিবার সকালে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ৪৮ জন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। সন্ধ্যায় পেশ করা সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র মুম্বইয়ে আক্রান্ত ১৬২ জন, মৃত ৯।

পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে বিএমসি নমুনা পরীক্ষায় আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১,৫০০ পরীক্ষা করানো হচ্ছে। শুধুমাত্র ‘হটস্পট’ নয়, মিউনিসিপ্যালিটির কোনো ওয়ার্ডে সর্দি-কাশি অথবা জ্বরের খবর মিললেই তা পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কোভিড-১৯: আশা দেখাচ্ছে ইতালি, স্পেন এবং ইরান

সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহি এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলিতে দেশে ফিরে এসে কোয়ারেন্টিন মেনে না চলার কারণেই মহারাষ্ট্রে সংক্রমণের ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নিজামুদ্দিন মরকজের সংযোগও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.