rajnath singh

শ্রীনগর: কাশ্মীরকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া সংবিধানের ৩৫এ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়ার দাবি উঠছে কেন্দ্রের শাসকদলের ভিতর থেকেই। রাজ্য সরকারের জোটসঙ্গী বিজেপি এটাও ভালো করে বুঝতে পারছে, যে কাশ্মীরিদের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে, এমন সিদ্ধান্ত নিলে কাশ্মীরিদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে। সেই প্রসঙ্গেই কাশ্মীরিদের কিছুটা আশ্বাস দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এই অনুচ্ছেদ সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন, “কাশ্মীরের মানুষদের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নেবে না।”

কাশ্মীর সমস্যার সমাধানসূত্র খুঁজে বার করার জন্য শনিবার শ্রীনগরে এসে পৌঁছোন রাজনাথ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি, নিরাপত্তাবাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গেও দেখা করেছেন তিনি। সোমবার জম্মুর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে রাজনাথ আবারও বলেন, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে আগ্রহী সব অংশীদারের সঙ্গেই তিনি কথা বলতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমি সব সময়ে বলে আসছি যে রাজ্যের সব অংশীদারের সঙ্গেই কথা বলতে আমি প্রস্তুত।”

প্রয়োজন হলে রাজ্যে একাধিকবার আসতে পারেন তিনি, এমনই বলেছেন রাজনাথ। তাঁর কথায়, “শুধু পাঁচ বার নয়, যদি প্রয়োজন হয় বছরে পঞ্চাশ বার কাশ্মীরে আসতে রাজি আমি। রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যা পদক্ষেপ করা দরকার আমি সব করতে রাজি।” কাশ্মীরের পরিস্থিতি আগের থেকে কিছুটা উন্নত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। “পরিস্থিতির ক্রমে উন্নতি হচ্ছে। এটা বলব না যে রাজ্যের পরিস্থিতি ভালো, কিন্তু এটা নিশ্চয়ই বলব যে আগের থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।”

নিরাপত্তাবাহিনীর ওপরে পাথর ছোড়ার অভিযোগে আঠারো বছরের নীচে অনেক যুবকই গ্রেফতার হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে রাজনাথের মত, আঠারো বছরের কম যুবকদের অপরাধী ভাবা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “কম বয়সে অপরাধ করে ফেললে তাদের জন্য কিশোর অপরাধী আইন রয়েছে। তাই কম বয়সিদের জেলে নয়, পাঠানো উচিত কিশোর অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত হোমে (জুভেনাইল হোম)।” প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের সুরেই রাজনাথ বলেন, কাশ্মীরিদের গলায় জড়িয়ে নিলেই সব সমস্যা মিটে যাবে।

কাশ্মীরে বেড়াতে আসার জন্য পর্যটকদেরও আবেদন করেছেন রাজনাথ। সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “রাজ্যে পর্যটনের প্রসারের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে কেন্দ্র।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন