বরাবাঁকি (উত্তরপ্রদেশ): এক দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দলের সাংসদ বিধায়কদের ‘মুখ সামলে’ চলার পরামর্শ দিচ্ছেন, অন্য দিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও তাঁর কর্মীদের উদ্দেশে বেপরোয়া কথা না বলার নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু সেই বার্তা যে আদৌ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পৌঁছচ্ছে না তা আরও এক বার প্রমাণিত হল। প্রমাণ যিনি করলেন তাঁর নাম প্রিয়াঙ্কা সিংহ রাওয়াত। রাজ্যের বরাবাঁকির সাংসদ তিনি।

ক্যামেরায় ধরা পড়েছে রাজ্যের এক পুলিশ অফিসারকে অশ্রাব্য ভাষায় কটূক্তি করছেন প্রিয়াঙ্কা। বরাবাঁকির এএসপি জ্ঞানেন্দ্র সিংহকে ফোনে এই সাংসদ বলছেন, “আপনার সব অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেব। আপনার চামড়া ছাড়িয়ে নেব।” তিনি যে নিজের এই মন্তব্যের জন্য বিন্দুমাত্র দুঃখিত নন তা বুঝিয়ে দেন প্রিয়াঙ্কা। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে, এই ভাষা ব্যবহার করার কথা তিনি স্বীকার করে নেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পূর্বতন সরকারের আমলে পুলিশ যথেষ্ট দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। এই আমলে ওরা যদি ঠিকঠাক কাজ না করে তা হলে চামড়া ছাড়িয়ে নেব।”

কিন্তু যে পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে এ রকম ভাষা ব্যবহার করলেন প্রিয়াঙ্কাদেবী, তাঁর বিরুদ্ধে এত রাগ কেন? প্রিয়াঙ্কাদেবীর মতে, একটি খুনের তদন্ত ঠিক পথে এগোচ্ছে না, এটা বলার জন্য জ্ঞানেন্দ্রবাবুকে ফোন করেছিলেন তিনি। তখন ওই পুলিশ অফিসার প্রিয়াঙ্কাদেবীকে বলেন, “আমি পুলিশ, আমার কর্তব্য আমি জানি।” পুলিশ অফিসারের এই ‘দুর্ব্যবহারে’ ক্ষুব্ধ হন ওই সাংসদ।

এর পর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কাদেবী বলেন, “এখন কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যে যোগী আদিত্যনাথ। যে পুলিশ অফিসার ভালো কাজ করবেন তাঁরাই শুধু এই জেলায় (বরাবাঁকি) থাকবেন। নিজেদের ব্যবহার যদি ঠিক না করেন তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ক্ষমতায় আসার পর নেতাকর্মীদের সংযত হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কিন্ত সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বিতর্ক বাড়িয়েই চলেছেন রাজ্যের একাধিক নেতা। কিছু দিন আগেই বিজেপির একজন নেতা অনুমতি না নিয়ে মিছিল বার করেছিলেন এবং এক পুলিশ অফিসারের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

ব্যাঙ্ক অফিসার তাঁর দিকে নজর দিচ্ছেন না, এই অজুহাতে দিন দুয়েক আগে ওই অফিসারকে ব্যাঙ্ক থেকে বার করে নিয়ে আসেন বিজেপি বিধায়ক কেশন সিংহ। তাঁকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ।

রাজ্য সরকারের মুখপাত্র শ্রীকান্ত শর্মা বলেন, “আগের সরকারের নেতাকর্মীরা যে রকম ভাষা ব্যবহার করতেন, সেটা এই আমলে যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here