ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচিতি নিঃসন্দেহে বেশ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বিগত কয়েক মাসে। বিশ্বের যাবতীয় গণমাধ্যম হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ট্রাম্পের গতিবিধির খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। অনেকেই হয়তো জানেন না রাজনিতিবিদ, লেখক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধনকুবের ব্যবসায়ীও। তাঁর ব্যবসার বিস্তার আমেরিকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে অনেক দিন আগেই। এমন কি বাদ পড়েনি ভারতও।

মহারাষ্ট্রের পুনে এবং হরিয়ানার গুরগাঁওতে রিয়েল এস্টেটে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ করেছে ট্রাম্পের সংস্থা। আর তা নিয়েই সূত্রপাত বিতর্কের। মার্কিন সাপ্তাহিক নিউজউইকে প্রকাশিত হওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বিনিয়োগের জেরে আসন্ন মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হলে বদলাতে পারে ভারত-মার্কিন সর্ম্প্ক, প্রভাব পড়তে পারে আমেরিকার বিদেশনীতিতেও।

২০১১ সালে পুনেতে এক ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে ট্রাম্পের সংস্থা। তার বৈধতা মানেনি মহারাষ্ট্র সরকার। সরকারী হস্তক্ষেপে বাধা পেয়ে মাঝপথে থেমেও যায় এই প্রকল্পের কাজ।  ট্রাম্পের ছেলে নিজে ভারতে এসে আলাপ আলোচনা চালালেও খালি হাতে ফিরে যেতে হয় তাকে। মহারাষ্ট্র সরকার সাফ জানিয়ে দেয় নিয়মের কোন ব্যাতিক্রম করবেন না তারা। সমস্যা এখনও জারি রয়েছে।

এই অবস্থায় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, আগামী জানুয়ারীতে ট্রাম্প যদি মার্কিন রাষ্ট্রপতি হন, সেক্ষেত্রে কেমন হবে ভারত-আমেরিকার রসায়ন? কংগ্রেস-বিজেপির দুই দলের অনেক প্রভাবশালী সদসস্যের সঙ্গেই অবশ্য ট্রাম্পের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ব্যবসা সংক্রান্ত এই অস্বস্তিকর অবস্থা ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়।

ভারতীয় রাজনীতিবিদদের খুশি করতে কি পাকিস্তানের সম্পর্কে কড়া অবস্থান নেবে আমেরিকা?  নাকি ভারতের প্রতি কড়া অবস্থান নিয়ে এদেশের রাজনীতিবিদদের নিজের পক্ষে নিয়ে আসতে চাইবেন ট্রাম্প?  প্রশ্নের উত্তর এখনও বহু দূর। তবে রিপাবলিকান ধনকুবের যদি জানুয়ারির শেষে হোয়াইট হাউজে ঢুকতে পারেন, তাহলে পুনের ৬৫ তলা ট্রাম্প টাওয়াররের উচ্চতা মিডিয়ার নজরে যে অনেকটাই বেড়ে যাবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন