ওয়েবডেস্ক: সত্তর এবং আশির দশকে দক্ষিণ ভারতের খবরের কাগজে মাত্র এক কলামের, বেশ ছোটো একটা বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হত। যে রকমটা হয়ে থাকে আর কী এ রকম বিজ্ঞাপন! যেখানে পুরুষের জননাঙ্গ সম্পর্কিত সমস্যার কথা এবং তার থেকে নিষ্কৃতির নিদান কোথায় গেলে মিলবে, তা বাতলে দেওয়া থাকে!

কিন্তু এম সরকারের পেশার বিজ্ঞাপন যত ছোটো আর সাদা-কালো হোক না কেন, জীবনের বিস্তৃতি অনেকটাই গভীর! যা অবিভক্ত পাকিস্তান থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ হয়ে অবশেষে পৌঁছে গিয়েছে্ কেরলে। গড়ে তুলেছে ৭ জন স্ত্রী এবং ৫৬ জন সন্তান নিয়ে রীতিমতো এক গোষ্ঠী। সরকার-রাজ বললে যা খুব একটা মিথ্যা বলা হবে না!

খবর বলছে, পাকিস্তানের সইদ আলি ব্যর্থ প্রেমের কারণেই পরিবার ত্যাগ করে চলে আসেন উত্তরপ্রদেশে। যে মেয়েটির প্রেমে তিনি পড়েছিলেন, তাঁর পরিবার তাকে গুম করে দেয়। জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয় নিজেদের বেছে রাখা পাত্রীর সঙ্গে। কিন্তু এর পর বেশি দিন তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকা সম্ভব হয়নি। তাই উত্তরপ্রদেশে এসে ডেরা ফেলা এবং একটি ভারতীয় মেয়েকে নিকাহ-র পালা!

SK Sarkar

কিন্তু ভাগ্য সইদ আলিকে টেনে আনল কেরলে। বংশানুক্রমে ইউনানি চিকিৎসায় অভ্যস্ত এই পরিবারের সন্তান ভারতে আসার পরে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন যৌনচিকিৎসাকে। কিন্তু তা দুটি কারণে খুব সহজ ছিল না। প্রথমত তাঁর ধর্ম এবং জন্মভূমি। দ্বিতীয়ত, যৌনতা নিয়ে ভারতবাসীকর সনাতন রাখ-ঢাক!

ফলে সইদ আলি রূপান্তরিত হলেন এম সরকারে! উত্তরপ্রদেশ থেকে ঘুরতে ঘুরতে ত্রিবান্দ্রমে এসে স্থাপন করলেন যৌনচিকিৎসালয়। তার মধ্যেই ৭টি বিয়েও সারা হয়ে গিয়েছিল তাঁর। খুব সম্ভবত এ তাঁর অচরিতার্থ প্রথম প্রেমের যাতনা! তবে ৫৬টি সন্তান যে নিতান্তই তাঁর পেশার সুব্যবস্থার হাতে-কলমে প্রমাণ, তা নিয়ে দ্বিধা রাখা যাবে না।

এম সরকারের বড়ো ছেলে এস কে সরকার এখন ত্রিবান্দ্রমের ওই চিকিৎসালয়টি চালান। “আমাদের ভাইদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। বুঝতেই পারছেন, না হলে সবার সঙ্গে সবার নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সম্ভব নয়”, জানিয়েছেন তিনি।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন