নয়াদিল্লি: তাঁর লোনের দরকার ছিল না, কম সুদেও নয়। কিন্তু ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা মহিলা এতটাই জোরজার শুরু করেন যে বাধ্য হয়ে লোনের ব্যাপারে রাজি হন তিনি। কিন্তু পরে দেখা গেল লোন নিতে গিয়ে ৩.৮ লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছে তাঁর।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মার্চে। দিল্লির বাসিন্দা ওই মহিলা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লোন এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া মহিলাকে নিজের বাড়িতে ডাকেন। বাড়িতেই ওই ‘এজেন্টকে’ আধার কার্ড-সহ যাবতীয় কাগজপত্র দেন ওই মহিলা। সেই সঙ্গে দেন একটি ‘বাতিল’ চেক।

আসলে যে পদ্ধতিতে একটি চেককে বাতিল করা হয়, সেই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। ওই ‘এজেন্ট’ চেকটি নিয়ে শুধুমাত্র নামের জায়গাটি কেটে দেয়। মহিলা যেন বুঝে যান যে চেক বাতিল হয়ে গিয়েছে।

এই ঘটনার আধ ঘণ্টার মধ্যেই মোবাইলে একটি এসএমএস পান ওই মহিলা। নিজের ব্যাঙ্ক থেকে আসা এসএমএসে দেখা যায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা হয়েছে তিন লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।

মহিলা ব্যাঙ্কে দৌড়ন, কিন্তু কোনো উপায় ছিল না। যে চেক থেকে তাঁর টাকা তোলা হয়েছে সেখানে তো তাঁরই সই ছিল। এর পরেই পুলিশে অভিযোগ জানান ওই মহিলা। কিছু দিন আগেই এই মামলার সমাধান করে ফেলেছে পুলিশ। দীপক অরোরা নামক বছর চল্লিশের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের আধিকারিক বিজয় কুমার জানিয়েছেন, স্ত্রী শোভনার চিকিৎসার খরচ বহন করার জন্য এই ফন্দি এঁটেছিল দীপক। স্ত্রীকে অর্ধেক টাকা দিয়ে বাকি টাকাটা নিয়ে উত্তরপ্রদেশ পালায় দীপক। সেখানে আইপিএলের বেটিং-এ জড়িয়ে পড়ে সে। বেশি টাকার লোভে পড়ে ক্রমশ টাকা খোয়াতে শুরু করে দীপক। পুলিশ যখন তার কাছে পৌঁছোয় তখন তার কাছে পড়ে ছিল মাত্র ৬০ হাজার টাকা। আর স্ত্রী শোভনা দিল্লিতে থেকে নিজের চিকিৎসা করাতে থাকেন। পুলিশ শোভনাকে এখনও গ্রেফতার করেনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here