কোভিডের জন্য সাহায্য চেয়ে মোবাইল নম্বর শেয়ার করে অশালীন মেসেজ পাচ্ছেন মহিলারা

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: কয়েক সপ্তাহ দেশে নতুন করে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা অপ্রত্যাশিত ভাবে বেড়ে চলেছে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারি দফতর এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রকে।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেই পর্যাপ্ত হাসপাতালের বেডের অভাব এবং অক্সিজেন-সহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্দশায় পড়া মানুষ সহযোগিতার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিচ্ছেন। অনেকে ব্যক্তিগত ভাবে অথবা সংগঠনের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া মারফত তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিচ্ছেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ উদ্দেশ্যসাধন করলেও কিছু ভারতীয় মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মোবাইল নম্বর শেয়ার করে অশালীন মেসেজে পাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে মোবাইল নম্বর শেয়ার করে কেউ কেউ অশ্লীল মেসেজের পাশাপাশি ফোন কলেও কুরুচিকর মন্তব্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মুম্বইয়ের বাসিন্দা শাশ্বতী শিবা জানিয়েছেন, তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য সাহায্য চেয়ে টুইটারে আবেদন করেছিলেন। তাঁর পরিবারের একাধিক ব্যক্তি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের অসুস্থ সদস্যের জন্য রক্তদাতা চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নম্বর শেয়ার করেছিলেন।

এরপরে কী ঘটেছিল?

তা ব্যাখ্যা করে শাশ্বতী টুইটারে লিখেছিলেন, “প্লাজমা দাতাদের সন্ধান করা হচ্ছিল। অনেক ফোন আসছিল। তাদের বেশির ভাগই পুরুষদের কাছ থেকে। কোন গ্রুপের রক্ত লাগবে, তা জানার থেকে তাদের অনেকের প্রশ্ন ছিল, আমি একা কি না? আমি তাদেরকে নিজের ছবি শেয়ার করব কি না, আমার ডিপি খুব ভালো ইত্যাদি। এবং এক “বন্ধু”তো প্রস্তাবও দিলেন তিনি আমাকে সাহায্য করবেন ‘যদি কমপক্ষে এক বার আমি তাঁর সঙ্গে ডেটে যাই”।

এখানেই শেষ নয়। বেশ কিছু পুরুষের কাছ থেকে গ্রাফিক ইমেজও পেতে শুরু করেন শাশ্বতী। তাঁর কথায়, “আজ সকাল থেকেই আমি (হোয়াটসঅ্যাপে) তিনটে কুরুচিকর ছবি পেয়েছি এবং সাত জন পুরুষ আমাকে ধারাবাহিক ভাবে ভিডিও কল করার চেষ্টা করছে। এমন জরুরি অবস্থাতেও কিছু পুরুষ যৌনাঙ্গের কথা চিন্তা করে”।

অন্য়ান্য মহিলার প্রতি সতর্কতা বার্তা দিয়ে শাশ্বতী বলেছেন, এমন পাবলিক ফোরামে নিজের মোবাইল কখনোই শেয়ার করবেন না।

শাশ্বতী এক নন!

তবে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার শুধুমাত্র শাশ্বতী একা নন। তাঁর টুইট সমর্থন করেছেন অনেকেই। জানিয়েছেন তাঁদের অভিজ্ঞতার কথাও। এ ধরনের ঘটনার শিকার যে তাঁরাও কম-বেশি হয়েছেন, সেটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে নেটিজেনদের মন্তব্যে।

এ ধরনের একটি ঘটনা শেয়ার করে অন্য একজন নেটিজেন লিখেছেন, “আমি লকডাউন এবং / অথবা উম্পুন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, এমন মানুষের সঙ্গে আমি গত বছর কাজ করছিলাম। আমরা তাদের রেশন পৌঁছে দিচ্ছিলাম … কল চ্যাটে অনেকেই আমাকে আমার ডিপি দেখাতে বলত। আমি তাদের ব্লক করেছিলাম”।

মহিলাদের প্রতি এ ধরনের ব্যবহারে নেটিজেনদের একটা বড়ো অংশ বিস্মিত। বিশেষত, এমন একটা সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, যখন সারা দেশ করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে হিমশিম খাচ্ছে। একটা বড়ো অংশের মানুষ ভাইরাসের হাত থেকে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

আরও পড়তে পারেন: Corona Update: রেকর্ড তৈরি করে দেশে একদিনেই সুস্থ হলেন আড়াই লক্ষের বেশি, লাগাম পড়ল সংক্রমণেও

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন